একটি যাত্রীবাহী বাসের রাস্তা আটকায় বালুচ বিদ্রোহীরা। তারপর সকলকে বাস থেকে নামিয়ে তার মধ্য থেকে পাক পাঞ্জাবের ৯ যাত্রীকে আলাদা করে খতম করে।

বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মির সরফরাজ বুগতি এই সন্ত্রাসবাদী কাজের তীব্র নিন্দা করে ভারতকে ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 10:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের বালুচিস্তানে প্রায় ১৭টি জায়গায় একযোগে বিশাল হামলা চালানোর পরপরই শুক্রবার পাক পাঞ্জাবের ৯ বাসযাত্রীকে বেছে বেছে গুলি করে মারল বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী বাসের রাস্তা আটকায় বালুচ বিদ্রোহীরা। তারপর সকলকে বাস থেকে নামিয়ে তার মধ্য থেকে পাক পাঞ্জাবের ৯ যাত্রীকে আলাদা করে খতম করে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সেনা ও সরকার-প্রশাসনিক শীর্ষস্থানে রয়েছেন মূলত পাক পাঞ্জাবের মানুষ। সে কারণে পাকিস্তান বিরোধী বালুচদের আক্রোশ রয়েছে এই প্রদেশের উপর।
পুলিশ-প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বালুচিস্তানের জোহব এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর ঘটনাটি ঘটেছে। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা বাসযাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখে খুন করে। কোয়েট্টা থেকে লাহোর যাচ্ছিল বাসটি। বাসে উঠে পরিচয়পত্র দেখে পাক পাঞ্জাবি যাত্রীদের নামিয়ে নেয় তারা। পুলিশ জানিয়েছে, পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় বাস করতেন এই যাত্রীরা। এখনও পর্যন্ত বালুচ বিদ্রোহীদের কোনও গোষ্ঠী এই হত্যালীলার দায় স্বীকার করেনি।
বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মির সরফরাজ বুগতি এই সন্ত্রাসবাদী কাজের তীব্র নিন্দা করে ভারতকে ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ওরা বেছে বেছে পাকিস্তানি পরিচয়ের লোকদের টেনে নামিয়ে খুন করেছে। জঙ্গিরা ফের একবার ওদের কাপুরোষিত কাজের নমুনা দেখাল। বুগতি এ ধরনের সন্ত্রাসবাদে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে বর্ণনা করেন। বলেন, আমরাও কঠিন ও জঙ্গিদের নিকেশ করে ছাড়ব।
অন্যদিকে, ‘অপারেশন বাম’ বা সূর্যোদয় অভিযান নাম দিয়ে বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট ও সহযোগী বিদ্রোহী সংগঠনগুলি দুদিন আগে প্রায় প্রত্যেকটি জেলার পাকিস্তানের সরকারি ও সেনা ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। মঙ্গলবার রাতভর চলা ওই অভিযান কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএলএফ দাবি করেছে, এই অভিযান দশকের পর দশক পুরনো পাকিস্তান সরকার বিরোধী লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায়। তারাই এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। বালুচিস্তান প্রদেশের ১৭টি জায়গায় হামলায় পাকিস্তানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা ছাড়াও বেশকিছু প্রশাসনিক ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিদ্রোহীরা। এছাড়াও কয়েকটি মিলিটারি চেক পয়েন্ট উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফে এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে বিএলএফের মুখপাত্র মেজর গোয়াহরাম বালুচ জানান, বালুচের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন যুদ্ধের নতুন সূর্যোদয় ঘটাল এই অভিযান। মাকরান উপকূল থেকে কোহ-ই-সুলেমান পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত একযোগে অভিযান চালিয়েছি আমরা। এখানেই শেষ নয়, স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন এক নয়া মাত্রা পেতে চলেছে। যে কোনও প্রতিকূল অবস্থাতেও যে বালুচ সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি সরকারকে। সরকারি কর্মী, সেনা ও ভবনের মারাত্মক ক্ষতি করে দেওয়ার দাবি করলেও পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে।