এই সতর্কতা এসেছে এমন এক সময়, যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

আমেরিকা স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস
শেষ আপডেট: 11 July 2025 09:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান সফর নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জারি করল আমেরিকার বিদেশমন্ত্রক। বিশেষ করে আমেরিকায় বসবাসকারী ইরানি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা, ‘ইরানে যাওয়া বিপজ্জনক’। সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এই বিষয়ে বিস্তারিত সতর্কবার্তা দেন এবং জানান, এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে একটি নতুন ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।
ট্যামি ব্রুস বলেন, “আমাদের বার্তা একেবারে স্পষ্ট। বিশেষ করে যাঁদের ইরানি সংযোগ রয়েছে বা দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তাঁদের ইরানে না যাওয়াই ভাল। ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দেয় না এবং আটক মার্কিন নাগরিকদের কনসুলার সেবার ক্ষেত্রেও বাধা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বোমাবর্ষণ আপাতত বন্ধ থাকলেও, এর মানে এই নয় যে ইরান ভ্রমণের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠেছে। সেটা এখনও হয়নি। তাই আমরা নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করছি, যাতে এই সতর্কতা আরও বেশি করে পৌঁছে দেওয়া যায়।”
ওয়েবসাইটটি পাওয়া যাবে state.gov ওয়েবসাইটে, যেখানে একাধিক ভাষায় ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ, সতর্কবার্তা ও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কতা এসেছে এমন এক সময়, যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি ইজরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ চালায়, যার আওতায় ইরানের নাতানজ ও ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ ইউনিট এবং IRGC ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়।
এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ IRGC কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপরই ২২ জুন আমেরিকা ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ চালায়, যেখানে লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের পরমাণু পরিকাঠামো।
ইরান তার প্রতিশোধ হিসাবে ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং কাতারে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা করে। ইরান এই দুটি অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের "স্পষ্ট লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে হয়তো সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো যাবে। হোয়াইট হাউসে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় না আমাদের আর কিছু করতে হবে। ওরাও (ইরান) চায় না যে আমরা কিছু করি। তারা আলোচনায় আগ্রহী, কিছু একটা মীমাংসা করতে চায়।”
তিনি জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা চলছে। তাঁর কথায়, “আমরা আলোচনা করব। ওরা (ইরান) কথা বলতে চায়। আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত হেনেছি, তাতে ওদের অবস্থান বদলেছে।”
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তেহরান চায় আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে, যদিও অতীতের আঘাতের কথা মনে করেই বিশ্বাস অর্জন কঠিন হতে চলেছে।