আকাশযুদ্ধে এই বিমানকে চলতি কথায় ‘বলবান ড্রাগন’ নামে ডাকা হয়।

অত্যন্ত সস্তা বলে তেহরান চিনের কাছ থেকে এই ধরনের বিমান কিনছে।
শেষ আপডেট: 1 July 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দ্বাদশ দিনের যুদ্ধ’এ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়া ইরান অবশেষে চিনের কাছ থেকে চেংদু জে-১০ সি বোমারু বিমান কিনতে চলেছে। আকাশযুদ্ধে এই বিমানকে চলতি কথায় ‘বলবান ড্রাগন’ নামে ডাকা হয়। নামডাক যাই হোক, এই যুদ্ধবিমান আধুনিক কৌশলগত দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে এবং সস্তার। অত্যন্ত সস্তা বলে তেহরান চিনের কাছ থেকে এই ধরনের বিমান কিনছে, যাতে পিএল-১৫ (পাকিস্তান বিমানবাহিনী যা ব্যবহার করে) ক্ষেপণাস্ত্র চালানো যায়। প্রকৃতপক্ষে ইরান যুদ্ধবিমান কেনার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করছিল, কিন্তু সে ব্যাপারে কোনও বৈষয়িক অগ্রগতি না হওয়ায় শেষপর্যন্ত চিনের টোপ গিলতে বাধ্য হচ্ছে তেহরান সরকার।
গত মাসে ইজরায়েলের আকাশপথে আক্রমণ ও জুড়িদার আমেরিকার হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল ইরান। ইরানের বিমানবাহিনী বা রেভলিউশনারি গার্ড কারও পক্ষেই সীমিত অস্ত্রভাঁড়ারের শক্তিতে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। ইরানের আকাশে যখন আমেরিকার কাছ থেকে কেনা ইজরায়েলের একের পর এক ফাইটার জেট মুহুর্মুহু হামলা চালাচ্ছিল, তখন অসহায়ভাবে দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না ইরানের। তারপরেই ইরান যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে শরণাপন্ন হয় চিনের।
ইরানের মনে সুপ্ত বাসনা ছিল যে, তারা রাশিয়ার কাছ থেকে এসইউ-৩৫ ফাইটার জেট কিনবে। এসইউ-৩৫ বা সুখোই সিরিজের এই বিমান হল দুই ইঞ্জিনের, এক আসনের ফাইটার জেট। তবে সুখোই এবং চেংদু দুটিই হল ৪.৫ প্রজন্মের বোমারু। যেখানে পৃথিবী এখন পঞ্চম এবং তার থেকেও অতিরিক্ত আধুনিক প্রজন্মের বিমানের ঘরানায় পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে নামে ‘বলবান ড্রাগন’ হলেও চেংদু এক ইঞ্জিনের ফাইটার জেট। আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত এফ-১৬ এর সমকক্ষ এই ফাইটার জেটে অত্যাধুনিক এইএসএ রাডার ও অনেক বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে সুখোই সরবরাহে বিশাল সময় লেগে যাওয়ার কারণে ইরান তড়িঘড়ি চিনের কাছ থেকে সস্তা দামেই চেংদু কিনে নিচ্ছে। প্রতি বিমানে প্রায় ৪০-৬০ মিলিয়ন ডলার কম খরচ পড়বে ইরানের।
রাশিয়ার সঙ্গে ২০২৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী ৫০টি সুখোই ৩৫ কেনার কথা হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৪টি হাতে পেয়েছে ইরান। অবরোধে জর্জরিত ইরান সরকার তাই চিনের জে-১০সি কেনার দিকে ঝুঁকেছে। উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে মিনি যুদ্ধে পাকিস্তান এই বিমানও কাজে লাগিয়েছিল। সেদিক থেকে চিনের এই জে-১০সিতে রয়েছে AESA রাডার, ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার পিএল-১০, ডব্লুএস-১০বি ইঞ্জিন এবং পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে ছোড়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র বহন ক্ষমতা। এছাড়াও বৈদ্যুতিন যুদ্ধকৌশল, আকাশ থেকে মাটিতে আক্রমণের প্রযুক্তি এবং দৃশ্যমানতার বাইরে কমব্যাটের ক্ষমতা। এছাড়াও আকাশপথে জ্বালানি ভরার প্রযুক্তি রয়েছে এতে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান কি পারবে একসঙ্গে সুখোই ও চেংদু কিনতে কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ চালাতে?