প্রশাসনের তরফে এই ক্ষতিপূরণের অঙ্কটিকে 'তাৎক্ষণিক সাহায্য' বলে দাবি করা হয়েছিল। ধরালি এবং হর্ষিলের দুর্গত পরিবারগুলির মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। কিন্তু এরপরই স্থানীয়দের বিক্ষোভ শুরু হয়।

সরকারি চেক ফেরালেন উত্তরকাশীর বন্যাবিধ্বস্ত গ্রামবাসীরা
শেষ আপডেট: 10 August 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হড়পা বানে কার্যত ভেসে গিয়েছে উত্তরকাশীর (Uttarkashi) একাধিক গ্রাম। ঘর-বাড়ি হারিয়ে কার্যত নিঃস্ব স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের তরফে বিলি করা ত্রাণ দিয়ে কোনওরকমে দিন কাটছে। এরমধ্যেও তাঁরা ৫ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক (Uttarkashi families protest) ফিরিয়ে দিলেন। তাঁদের অভিযোগ, ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞের তুলনায় এই অর্থ একেবারেই ‘অপর্যাপ্ত’।
প্রশাসনের তরফে এই ক্ষতিপূরণের অঙ্কটিকে 'তাৎক্ষণিক সাহায্য' বলে দাবি করা হয়েছিল। ধরালি এবং হর্ষিলের দুর্গত পরিবারগুলির মধ্যে তা বিতরণ করা হয়। কিন্তু এরপরই স্থানীয়দের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট করে দেখানোর জন্য গ্রামবাসীরা মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিযুক্ত করেন।
উত্তরকাশীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত আর্য এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ৫,০০০ টাকা কেবল একটি অস্থায়ী সহায়তা। তিনি জানান, 'সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিচার করে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত হওয়ার পর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।'
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি (Pushkar Singh Dhami) ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এই একই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে বিপর্যয়ে নিহতদের পরিবারকেও। রাজস্ব সচিবের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তৈরি করবে। প্রাথমিক প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শনিবার, পঞ্চম দিনেও উদ্ধারকাজ চলেছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মানুষদের সরিয়ে আনা হচ্ছে এবং দুর্গম অঞ্চলে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), কুকুর স্কোয়াড এবং থার্মাল ইমেজিং যন্ত্রের সাহায্যে ধরালি বাজার এলাকায় খোঁজ চলছে, যেখানে কাদা ও আকস্মিক বন্যার ধসে হোটেল, হোমস্টে ও দোকান মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও ৪৯ জন নিখোঁজ। এ পর্যন্ত দুর্গত ধরালি এলাকার বিভিন্ন অংশ থেকে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে। প্রশাসন বাড়িঘর, কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষতিরও সমীক্ষা করছে, যাতে পরবর্তী ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, 'সরকারের প্রধান লক্ষ্য সব আটকে পড়া মানুষকে সরিয়ে আনা, যা প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে।' তিনি আরও জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে, পাশাপাশি দুর্গতদের জন্য কমিউনিটি কিচেনে খাবার, পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।