উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে এক গরিব গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি না করে মেঝেতে প্রসব করানো হয়। নার্সের কটুক্তি ঘিরে ক্ষোভ ছড়াল। পড়ুন বিস্তারিত।

যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মহিলা।
শেষ আপডেট: 2 October 2025 10:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি নিতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রসব করতে হয় হাসপাতালের মেঝেতে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর এক নার্স কটূক্তি করে বসেন—“মজা আয়া? আবার বাচ্চা পয়দা করবে?” উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের এই ঘটনা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে ওই আসন্নপ্রসবা মহিলাকে হরিদ্বারের এক হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবার। অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে জানিয়ে দেন, এখানে প্রসব করানো সম্ভব নয়। হাসপাতালে ভর্তিই নেওয়া হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন ওই গৃহবধূ। অবশেষে রাত ১টা ৩০ নাগাদ হাসপাতালের মেঝেতেই সন্তানের জন্ম দেন তিনি— কোনও চিকিৎসক বা নার্সের সাহায্য ছাড়াই, সবার সামনেই।
পরিবারের এক সদস্য সোনি সাংবাদিকদের বলেন, “সকালে হাসপাতালে পৌঁছে আমরা জানতে পারি, রাতভর প্রসূতিকে বিছানায় শোয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রসব হওয়ার পর নার্স কটাক্ষ করে বলে ওঠে—‘মজা হল? আবার সন্তান জন্ম দেবে?’ এমন কথা কেউ বলতে পারে? যদি শিশুর কিছু হয়ে যেত, দায় নিত কে? মানুষ কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসে, বিদ্রূপ শোনার জন্য নয়।”
ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তাতে দেখা যাচ্ছে—যন্ত্রণায় ছটফট করছেন ওই মহিলা, মাটিতে শুয়ে প্রসব করছেন। পাশে এক বৃদ্ধা আত্মীয় তাঁকে ধরে রেখেছেন। অথচ আশপাশে কোনও হাসপাতাল কর্মীর দেখা নেই। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি 'দ্য ওয়াল'।
হরিদ্বারের চিফ মেডিক্যাল অফিসার (CMO) ড. আর কে সিং বলেন, “মহিলা হাসপাতালে রাত ৯টা ৩০ নাগাদ আনা হয়েছিল এবং রাত ১টা ৩০ নাগাদ ইমার্জেন্সি রুমেই প্রসব হয়। ভিডিওর সত্যতা যাচাই চলছে। অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, দায়িত্বে থাকা কন্ট্রাকচুয়াল চিকিৎসক ড. সোনালিকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুই নার্সকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
কেন ওই মহিলাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি, কী কারণে তাঁকে এমন জরুরি অবস্থায় অবহেলার শিকার হতে হলো—তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়, সে বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।