বেকার দাবি করলেই সন্তানের খরচ এড়ানো যাবে না—উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের স্পষ্ট বার্তা, ৬৫০০ টাকার রায় বহাল।

শেষ আপডেট: 2 April 2026 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেকারত্বের অজুহাত দেখিয়ে সন্তানের ভরণপোষণের (Child Maintenance) দায় এড়ানো যাবে না, স্পষ্ট বার্তা দিল উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট (Uttarakhand High Court)। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং শিক্ষিত কোনও ব্যক্তি শুধু “বেকার” দাবি করলেই তাঁর আইনি দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারেন না।
মামলাটি উঠে আসে হরিদ্বারের ফ্যামিলি কোর্টের একটি নির্দেশকে ঘিরে। সেখানে এক বাবা তাঁর দুই নাবালক সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৬,৫০০ টাকা করে ভরণপোষণ (Alimony) দেওয়ার নির্দেশ পান। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে বাবার আপত্তি ছিল—তাঁর দাবি, তিনি বেকার এবং আর্থিকভাবে এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, সন্তানের পক্ষ থেকে ওই টাকার পরিমাণ বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়।
এই দুই পক্ষের পৃথক আবেদনের ভিত্তিতেই বিষয়টি উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে ওঠে। বিচারপতি অলোক মোহরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যামিলি কোর্টের নির্দেশ বহাল রাখেন।
ঘটনার সূত্রপাত, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারার আওতায় মায়ের মাধ্যমে সন্তানের পক্ষ থেকে করা আবেদনে। সেখানে অভিযোগ ছিল, বাবা তাঁদের দেখভাল করছেন না এবং নিয়মিত খরচ দিচ্ছেন না। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে ফ্যামিলি কোর্ট আংশিকভাবে আবেদন মঞ্জুর করে প্রতি সন্তানের জন্য ৬,৫০০ টাকা করে মাসিক ভরণপোষণ নির্ধারণ করে।
হাইকোর্টে বাবার প্রধান যুক্তি ছিল, তিনি বর্তমানে বেকার এবং তাঁর আর্থিক অবস্থা দুর্বল। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সন্তানের মা আয় করেন, তাই দায়িত্ব দু’জনের মধ্যে ভাগ হওয়া উচিত। এমনকি, ভরণপোষণ আবেদনের তারিখ থেকে কার্যকর করার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।
তবে আদালত এই যুক্তিগুলি গ্রহণ করেনি। শুনানির সময় বাবার নিজস্ব স্বীকারোক্তি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। সেখানে উঠে আসে, তিনি একজন এমসিএ ডিগ্রিধারী এবং একটি টোকিও-ভিত্তিক সংস্থায় কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলেন, যেখানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৬৪,০০০ টাকা হওয়ার কথা ছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত জানায়, তাঁর বেকারত্বের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ—একজন সক্ষম, শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় বা অজুহাতে কাজ না করলে তা আইনি দায় এড়ানোর কারণ হতে পারে না।
মায়ের আয়ের প্রসঙ্গেও আদালত স্পষ্ট করে দেয়, মা উপার্জন করলেই বাবার দায়িত্ব কমে যায় না। বিশেষ করে যখন সন্তানেরা মায়ের কাছেই থাকে এবং দৈনন্দিন খরচ তিনিই বহন করেন।
আদালত আরও জানায়, আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের দায় দুই অভিভাবকের মধ্যে গাণিতিকভাবে ভাগ করার বাধ্যবাধকতা নেই। ফ্যামিলি কোর্ট দুই পক্ষের আর্থিক অবস্থা ও সন্তানের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই পরিমাণ নির্ধারণ করেছে।
সবদিক বিচার করে হাইকোর্ট জানায়, প্রতি সন্তানের জন্য ৬,৫০০ টাকা ভরণপোষণ যথাযথ এবং যুক্তিযুক্ত। ফলে, বাবার কমানোর আবেদন এবং সন্তানের বাড়ানোর আবেদন—দুটিই খারিজ করা হয়।
এই রায়ে আবারও স্পষ্ট হল, সন্তানের দায়িত্ব এড়ানোর জায়গা নেই, অজুহাত যতই শক্তিশালী শোনাক না কেন।