স্বামীর আয় বেশি হলেই কি স্ত্রীকে বেশি খোরপোষ দিতে হবে? রাজস্থান হাই কোর্ট জানিয়ে দিল বিস্তারিত।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাম্পত্য টলমল হয়েছিল ঠিক ৫৭ দিনের মাথায়। তারপরই ভরণপোষণের মামলা। স্ত্রী দাবি করেছিলেন, স্বামী সরকারি চাকুরে, মাসে দেড় লক্ষ টাকার বেশি রোজগার করেন—তাই তাঁর মাসিক ভরণপোষণ ৮ হাজার থেকে অনেকটাই বাড়ানো উচিত। কিন্তু রাজস্থান হাইকোর্ট (Rajasthan High Court) সেই আবেদন খারিজ করে দিল। বিচারপতি ফারজান্দ আলি (Justice Farjand Ali) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভরণপোষণের অঙ্ক স্বামীর আয়ের নির্দিষ্ট অংরশ ধরে ঠিক করার কোনও ‘স্ট্রেট-জ্যাকেট ফর্মুলা’ নেই।
রায়ের ভাষায়, “আইন কোথাও বলে না যে স্বামী বেশি রোজগার করলেই স্ত্রীকে তাঁর আয়ের অর্ধেক বা বড় অংশ পেতেই হবে। সেটা করলে ভরণপোষণকে আয় বা সম্পত্তি ভাগাভাগির মামলায় বদলে ফেলা হবে—যা আইনসম্মত নয়।”
অন্যদিকে, আদালত খতিয়ে দেখেছে স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত সম্ভাবনা। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে বেকার দাবি করলেই প্রমাণ হয় না যে স্ত্রী নিজের খরচ চালাতে অক্ষম। আদালতের বক্তব্য, কেবল আয়ের ক্ষমতা থাকলেই ভরণপোষণ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায় না, তবে কতটা ভরণপোষণ ঠিক হবে তা নির্ধারণে শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগের চাকরি, আয় করার সম্ভাবনা—সবই বিচার্য বিষয়।
ফ্যামিলি কোর্ট (Family Court) আগেই মাসে ৮ হাজার টাকা ভরণপোষণ ধার্য করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত ভুল বা অবৈধ নয় বলেই মত হাইকোর্টের।
স্ত্রী আদালতে জানিয়েছিলেন—৮ হাজার টাকা তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী অত্যন্ত অপ্রতুল। স্বামী (respondent) সরকারি কর্মচারী, মাসে দেড় লক্ষ টাকার বেশি মাইনে পান, উপরন্তু সম্পত্তিও রয়েছে। তাই ভরণপোষণ বাড়ানো জরুরি। যুক্তি ছিল, শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই ভরণপোষণ কমিয়ে দেখা যায় না, বিশেষত যখন স্ত্রী বর্তমানে কর্মহীন।
কিন্তু স্বামীর পক্ষ জানায়, স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত এবং আগে নামী প্রতিষ্ঠানে কাজও করেছেন। কাজ না করার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত, তাকে অক্ষমতা বলে ধরা যায় না। পাশাপাশি, নিজের প্রাপ্য নিয়ে আপত্তি জানালেও, স্বামী নিয়মিত ভরণপোষণের টাকা জমা দিচ্ছেন—এটাও আদালতের নজরে আসে। বিচারপতির মন্তব্য, “যারা বিষয়টির পক্ষে, তাদের আচরণ আদালত উপেক্ষা করে না। ন্যায়বিচারের সঙ্গে ন্যায্য ও সৎ মনোভাবও জড়িত।”
এই মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক—দাম্পত্যের স্থায়িত্ব। আদালত বলেছে, ৫৭ দিনের বিবাহিত জীবন ভরণপোষণের নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক। কারণ এতে বোঝা যায়, দুই পক্ষ কতটা সময় একসঙ্গে ছিলেন, জীবনের মান বা জীবনযাপনের অভ্যাস আদৌ ভাগাভাগি হয়েছিল কি না।
সব দিক বিবেচনা করে আদালতের সিদ্ধান্ত—ফ্যামিলি কোর্ট যে অঙ্ক ঠিক করেছে, সেটাই যুক্তিযুক্ত। অতএব, স্ত্রী’র ভরণপোষণ বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ হচ্ছে না। আপাতত আট হাজার টাকাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।