এনসিইআরটি সদ্য ‘বীণা’ (Veena) নামে একটি নতুন পাঠ্যবই প্রকাশ করেছে, যা জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP 2020) আলোকে তৈরি। এই বইতে ভারতের বৈজ্ঞানিক সাফল্য এবং সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে পড়ুয়াদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 July 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের সমস্ত সরকারি স্কুলে এবার রামায়ণ (Ramayana) এবং শ্রীমদ্ভগবদ গীতার (Sreemad Bhagavad Geetha) পাঠ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (Uttarakhand Government)। বুধবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ধন সিং রাওয়াত (Dhan Singh Rawat) জানিয়েছেন, ১৭ হাজার সরকারি স্কুলের বইয়ে এই দুই প্রাচীন ধর্মগ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দ্য ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (NCERT) কাছে অনুরোধ করা হয়েছে (include the Bhagavad Gita and the Ramayana in the syllabus)।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিক্ষা দফতরের একটি বৈঠকে আমরা এনসিইআরটিকে রামায়ণ এবং গীতা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছি। রাজ্যের ১৭ হাজার স্কুলে এগুলি পড়ানো হবে।' যতদিন না পর্যন্ত নতুন পাঠ্যক্রম কার্যকর হচ্ছে, ততদিন প্রতিদিনের প্রার্থনা সভায় স্কুলপড়ুয়াদের রামায়ণ ও গীতার শ্লোক পাঠ করানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন এনসিইআরটি সদ্য ‘বীণা’ (Veena) নামে একটি নতুন পাঠ্যবই প্রকাশ করেছে, যা জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP 2020) আলোকে তৈরি। এই বইতে ভারতের বৈজ্ঞানিক সাফল্য এবং সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে পড়ুয়াদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘বীণা’ বইটির একাধিক অধ্যায়ে উঠে এসেছে নানা বিষয়। যেমন, ‘গঙ্গার কাহিনি’ অধ্যায়ে গোমুখ থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গঙ্গার যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে। হরিদ্বার, বারাণসী, প্রয়াগরাজ, পাটনা, কানপুর, কলকাতা, এই সব শহর পেরিয়ে চলা গঙ্গাকে ঘিরে ধর্মীয়, সংস্কৃতিক, ভৌগলিক এবং অর্থনৈতিক দিকগুলিকে একসঙ্গে দেখানো হয়েছে। এই অধ্যায়ে আশ্রম, সাধু ও কুম্ভমেলার কথাও রয়েছে।
‘এআই’ (AI) নামের একটি অধ্যায়ে পড়ুয়াদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছে। কিভাবে যন্ত্র মানুষকে অনুকরণ করে চিন্তা করতে শেখে, সমস্যা সমাধান করে, তা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ‘গগনযান’ অধ্যায়ে ভারতের প্রথম মানববাহী মহাকাশ মিশন নিয়ে বিশদ বিবরণ রয়েছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর এই প্রকল্প, হিউময়েড রোবট ‘ব্যোমমিত্রা’র ভূমিকা- সবই তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন বইটিতে নৈতিকতা ও নাগরিক সচেতনতার পাঠও রয়েছে। যেমন ‘ন্যায় কি কুর্সি’ (Nyay Ki Kursi) অধ্যায়ে রাজা ভোজ এবং বিক্রমাদিত্যর মাধ্যমে ন্যায়বিচারের ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। আবার ‘হাতি আর পিঁপড়ে’ নামের একটি অধ্যায়ে রাস্তায় চলার সময় কীভাবে সতর্ক থাকতে হয়, তা শেখানো হয়েছে গল্পের মাধ্যমে।
এই পাঠ্যবইতে কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক, অজন্তা ও ইলোরা গুহা, প্রাকৃতিক রঙ তৈরির পদ্ধতি এবং প্যারালিম্পিক সোনাজয়ী মুরলীকান্ত পেটকরের বর্ণনাও রয়েছে।
এনসিইআরটি ইতিমধ্যেই একাধিক শ্রেণির জন্য নতুন পাঠ্যবই প্রকাশ করতে শুরু করেছে। কিছু বই ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে, বাকিগুলি বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রকাশ পাবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞানের (Social Science Textbook) পাঠ্যবইয়ে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষত এই বইয়ে দিল্লি সুলতানিশাহি ও মুঘল আমলে (Delhi Sultanate and the Mughal period) ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার উপর জোর দিয়ে বেশ কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
সুলতানিশাহি ও মুঘল আমলের সামাজিক ইতিহাস এই বইতে প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হল। যেখানে মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা বাবরকে একজন ‘নিষ্ঠুর ও নির্মম সম্রাট’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। শহরের সমস্ত বাসিন্দাকে কোতল করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মুঘল সম্রাট আকবরকে ‘নৃশংসতা ও সহনশীলতার মিশ্রণ’ বলা হয়েছে। ঔরঙ্গজেবকে মন্দির ও গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে এই বই।