নদীর জল ঢুকে পড়েছে আবাসিক এলাকায়। বাধ্য হয়ে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়েছে।

বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড
শেষ আপডেট: 29 August 2025 09:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলায় (Rudraprayag, Chamoli) ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে (Uttarakhand Cloudburst)। একাধিক পরিবার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বহু পরিবার। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী (Uttarakhand CM Pushkar Singh Dhami)।
রুদ্রপ্রয়াগের বারেৎ ধুংগার টোক এবং চমোলি জেলার দেবাল এলাকায় দুটি পৃথক মেঘভাঙার ঘটনা ঘটেছে (Natural Disaster)।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। তিনি নিজে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রী এক্স-এ লিখেছেন, “সকলের নিরাপদ সুস্থতার জন্য বাবা কেদারের কাছে প্রার্থনা করছি।”

এর আগে গত সপ্তাহেই চমোলিতে মেঘভাঙার জেরে থারালি এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তুনরি গদেরা স্রোতে জল বেড়ে যাওয়ায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষ তহশিলে ঢুকে পড়ে, একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চেপদো বাজার ও কোটদ্বীপ বাজারেও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে। গাড়ি কাদার মধ্যে আটকে থাকার ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।
এদিকে, উত্তরকাশীর হরশিল উপত্যকায় গত কয়েকদিন ধরেই চলছে ত্রাণকাজ। গদগদ গদেরা থেকে নামা ধ্বংসাবশেষের কারণে যমুনা নদীতে অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হওয়ায় সেই এলাকায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।
জেলা শাসক প্রশান্ত আর্য সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে জানান, “গঙ্গোত্রী যাত্রাপথে কোনও সমস্যা নেই। আমরা আশা করছি রাস্তাঘাট মেরামত শেষ হলে যমুনোত্রীর যাত্রাও পুনরায় শুরু করা যাবে।”
একই সঙ্গে রুদ্রপ্রয়াগ জেলাজুড়ে বিপর্যয় আরও গভীর হয়েছে। অলকনন্দা ও মন্দাকিনী নদীর জলস্তর লাগাতার বাড়ছে। কেদারনাথ উপত্যকার লাওয়ারা গ্রামে প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে সড়কের উপর নির্মিত সেতু। চেনাগাড় অঞ্চলেও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
নদীর জল ঢুকে পড়েছে আবাসিক এলাকায়। বাধ্য হয়ে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগের বিখ্যাত হনুমান মন্দিরও প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে রুদ্রপ্রয়াগের জেলাশাসক প্রীতেক জৈন জানিয়েছেন, বাসুকেদারে টানা ভারী বৃষ্টিতে চারটি বাড়ি ভেসে গেছে। তবে কোনও প্রাণহানি হয়নি, সব বাসিন্দাকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছি।”
এদিকে আবহাওয়ার সতর্কতা মাথায় রেখে রুদ্রপ্রয়াগ, বাগেশ্বর, চামোলি, হরিদ্বার ও পিথোরাগড় জেলার সব স্কুল আজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন।
এরও আগে চলতি মাসের শুরুতে ধরালি এলাকায় মেঘভাঙার ঘটনায় ১০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ হন। যদিও সম্প্রতি উত্তরকাশী-হরশিল সড়ক যোগাযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে গঙ্গোত্রী তীর্থযাত্রা এখনও বন্ধ রয়েছে।
সীমান্ত সড়ক সংস্থাকে (বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন) দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গঙ্গোত্রী যাত্রা সম্পূর্ণভাবে শুরু করা যায়।