গাড়িতে চেপে চারজন আসে শ্মশানে। কোনও ধর্মীয় নিয়ম বা বিধি না মেনে তারা সরাসরি গিয়ে দাঁড়ায় চিতার পাশে। ওই তড়িঘড়িতেই সন্দেহ জাগে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 November 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) হাপুরে গঙ্গার ব্রিজঘাট শ্মশানঘাটে বুধবারের দৃশ্য থ্রিলারের চেয়ে কম কিছু নয়। শেষকৃত্যের (Funeral) জন্য সাজানো চিতার সামনে আচমকাই দেখা গেল অদ্ভুত গতি–বিধি। আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্থানীয়রা বুঝে গেলেন, এ কোনও সাধারণ দাহ নয় কারণ, মৃতদেহ (Dead Body) আদৌ মানুষের নয়! চাদর সরাতেই বেরিয়ে এল পলিথিনে মোড়া এক প্লাস্টিকের পুতুল (Plastic Doll)।
ঘটনার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা ঘাটজুড়ে। চারজনের দলের দু’জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়েরা। বাকিরা গাড়ি নিয়ে পালায়। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় পুলিশে (Uttar Pradesh Police)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, একটি গাড়িতে চেপে চারজন আসে শ্মশানে। কোনও ধর্মীয় নিয়ম বা বিধি না মেনে তারা সরাসরি গিয়ে দাঁড়ায় চিতার পাশে। ওই তড়িঘড়িতেই সন্দেহ জাগে।
চাদর তুলতেই পরিষ্কার হয়, ভিতরে মানুষের দেহ নয়, বরং একদম মানুষের মতো বানানো প্লাস্টিকের মডেল (Mannequin)। ওজন, আকার, সব কিছু মিলিয়ে সেই নকল দেহ বানানো হয়েছিল যেন চোখে না পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এ শুধু বোকামি নয় - কোনও বড় জালিয়াতির অংশ বলেই মনে হচ্ছিল। আর তা পরক্ষণেই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়।
সঙ্গে সঙ্গে হইচই শুরু হওয়ায় ডেকে পাঠানো হয় পুলিশকে। প্রথমে অভিযুক্তরা দাবি করতে থাকে, দিল্লির (Delhi) একটি হাসপাতাল ভুল করে তাদের হাতে নকল দেহ দিয়েছিল। কিন্তু কথায়–কথায় ধরা পড়ে যায় অসংগতিগুলি। থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই পুরো পরিকল্পনা খুলে বলে তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার (Arrest) হওয়া দু’জন - দিল্লির কৈলাশপুরীর কমল সোমানি ও উত্তমনগরের অশীষ খুরানা জেরায় স্বীকার করেছেন যে পরিকল্পনাটা ছিল পুরোপুরি বীমা জালিয়াতির। কমলের মাথায় ছিল ৫০ লক্ষ টাকার ঋণ। সেই চাপ থেকেই এক বছর আগে সে তাঁর প্রাক্তন কর্মচারী অংশুল কুমারের আধার ও প্যান কার্ড (Aadhaar Card Pan Card) চুরি করে ৫০ লক্ষ টাকার জীবনবিমা করান। নিয়ম করেই প্রিমিয়ামও জমা দিচ্ছিলেন।
পরিকল্পনা ছিল - একটি নকল লাশ (Fake Dead Body) পুড়িয়ে মৃত্যুর সার্টিফিকেট বানানো, তারপর বীমা দাবি করে টাকা তুলে নেওয়া। এতটাই নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে শেষ পর্যায়ে এসে শুধু প্লাস্টিক পুতুলই গোটা খেলা থামিয়ে দিল।
শঙ্কা কাটাতে পুলিশ যোগাযোগ করে অংশুলের সঙ্গে। তিনি ফোনে জানান, তিনি প্রয়াগরাজে বাড়িতেই আছেন, সুস্থ আছেন, আর তাঁর নামে করা কোনও বিমার খবরই তিনি জানতেন না। এরপরই কমল ও অশীষকে গ্রেফতার করা হয়।