ট্রাম্প এবং মোদীর আলোচনার মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি ও কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদার করা। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমাতে পারে - যা ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 22 October 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ভোররাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু ছিল বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা। আর এই ফোনালাপের পরই এল বড় খবর। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার শুল্ক (USA Tariff) ৫০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ১৫–১৬ শতাংশে নামতে পারে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার শুল্ক (USA Tariff) ৫০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ হতে পারে।
সূত্রের খবর, ট্রাম্প এবং মোদীর আলোচনার মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি ও কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদার করা। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমাতে পারে - যা ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, উভয় দেশই আলোচনার শেষ ধাপে রয়েছে এবং এ মাসের শেষের দিকে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনের আগেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস বা নয়াদিল্লি কোনও বক্তব্য রাখেনি।
একটি রিপোর্ট বলছে, ভারত (India) কিছু মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির অনুমতি দিতে পারে। এতে আমেরিকার (USA) বহুদিনের যে অভিযোগ তা আংশিকভাবে মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত শুল্ক পর্যালোচনা ও বাজারে প্রবেশাধিকারের একটি কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যাতে বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা পায়।
এই চুক্তি কার্যকর হলে ২০২০ সালের পর প্রথমবার বড় অগ্রগতি হবে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে (US-India Business), যা তখন শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধে স্থগিত হয়েছিল। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত শুল্কছাড় ভারতীয় রফতানিকারকদের বড় সুবিধা দেবে, পাশাপাশি মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য খুলে দেবে ভারতের দ্রুতবর্ধনশীল ভোক্তা বাজার।
সব ঠিকঠাক চললে, এই মাসের শেষের দিকে আসিয়ান সম্মেলনে বিশ্বমঞ্চেই ঘোষণা হতে পারে নতুন ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি—যা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।