মার্কিন কর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা না নিলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারত এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারত। তাই সীমিত সময়ের জন্য এই কার্গোগুলি বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে হঠাৎ করে সরবরাহে ঘাটতি না তৈরি হয়।

শেষ আপডেট: 6 March 2026 09:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল আমেরিকা। সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজের কার্গো ভারতকে বিক্রি করার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দিল ওয়াশিংটন (US waiver for India to buy Russian oil)। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের (Iran conflict) জেরে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে (India oil supply concerns)।
বৃহস্পতিবার এই অস্থায়ী ছাড়ের ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাশিয়ার যে তেলের কার্গোগুলি ইতিমধ্যেই ট্যাঙ্কারে তোলা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর ক্রেতা না পেয়ে সমুদ্রে আটকে পড়েছিল (Russian oil shipments stranded at sea), সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতে বিক্রি করা যাবে।
India gets US permission to buy Russian oil for 30-days. https://t.co/sXiZ3n5u9S
— Suhasini Haidar (@suhasinih) March 6, 2026
মার্কিন কর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা না নিলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারত এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারত। তাই সীমিত সময়ের জন্য এই কার্গোগুলি বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে হঠাৎ করে সরবরাহে ঘাটতি না তৈরি হয়।
এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ত বলেন, “ভারত যুক্তরাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইরানের চেষ্টা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে জিম্মি করার, তার ফলে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা সেই চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।”
তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রবাহ বজায় রাখতে আমেরিকা ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় দিচ্ছে, যাতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রাশিয়ার ওই তেল কিনতে পারে। তবে এই ছাড় শুধুমাত্র সেই সব কার্গোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেগুলি ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছে। এর ফলে মস্কোর আর্থিকভাবে বড় কোনও লাভ হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
বেসেন্টের বক্তব্য, ভবিষ্যতে ভারত আমেরিকার কাছ থেকেও আরও বেশি তেল কিনবে, এমনটাই আশা করছে ওয়াশিংটন।
আরব দুনিয়ার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে ভারত
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন আরব দুনিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় ভারত কিছুটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের অপরিশোধিত তেলের মজুত মাত্র প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
তার ওপর ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে আরব দুনিয়া থেকে। এই তেলের বড় অংশই জাহাজে করে আসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে ভারতের জ্বালানি সরবরাহও প্রভাবিত হতে পারে।
রুশ তেলের খোঁজে ভারতীয় সংস্থাগুলি
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতের বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিস (Reliance Industries) ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত রাশিয়ার তেলের কার্গো নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
বাজারে রুশ তেলের দামের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই ধরনের কার্গো ব্রেন্ট তেলের দামের তুলনায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৩ ডলার কম দামে বিক্রি হচ্ছিল।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (Hindustan Petroleum Corporation Limited)-ও ওই সময়ে সেই ছাড়ে দুটি কার্গো কিনেছিল। তখনও সংঘাত শুরু হয়নি, ২৮ ফেব্রুয়ারির ঠিক আগে সেই কেনাকাটা হয়েছিল।
রাশিয়ার তেল ভারতের কাছে বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ী রয়টার্সকে জানান, “এই মুহূর্তে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি আবার বাজারে সক্রিয় হয়েছে। এখন দাম নয়, বরং তেল পাওয়াটাই বড় প্রশ্ন।”
বিশ্ববাজারে স্থিতি বজায় রাখতেই মার্কিন সিদ্ধান্ত
মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, যদি সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার ওই তেল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে বিশ্ববাজার থেকে বড় অঙ্কের অপরিশোধিত তেল হঠাৎ করে উধাও হয়ে যেতে পারে। এতে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হত।
বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটে বিঘ্নের কারণে তেলের বাজার ইতিমধ্যেই অস্থির। এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকা কার্গোগুলিকে ভারতে পৌঁছতে দেওয়া হলে সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল থাকবে, এমনটাই মনে করছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো।