মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা। ভারতও সেই প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে।

শেষ আপডেট: 21 February 2026 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাম্পের শুল্কনীতি সংক্রান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় (US Supreme Court tariffs ruling) এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ভারত সরকার (US tariff ruling impact India)। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক জানিয়েছে, মার্কিন শুল্ক নীতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সব উন্নয়ন ও তার সম্ভাব্য প্রভাব (US tariffs ruling possible effect on international economics) বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রকের বক্তব্য, শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর এই বিষয়টি তারা কড়া নজরে রেখেছে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাংবাদিক সম্মেলনও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের তরফে কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেই সমস্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে (India trade response)।
ভারত সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে বোঝা যায় এই পরিবর্তনগুলির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা নীতিগত প্রভাব কী হতে পারে। এই বিবৃতি এমন এক সময় এসেছে, যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে “অবৈধ” বলে উল্লেখ করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
এই রায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও নজর রাখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা। ভারতও সেই প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে।
আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত তাঁর আরোপ করা পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করলেও ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে কোনও বদল হচ্ছে না, এ কথা আগেই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ, মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত তার রায়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের একটি জরুরি অর্থনৈতিক আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের বিশ্বজুড়ে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে লিখেছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানেই শুল্ক বসানোর অধিকার নয়। সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
এদিকে, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, দুই দেশের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি মার্চ মাসেই সই হতে পারে এবং এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে প্রথম পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। চূড়ান্ত পাঠ ঠিক করতে দুই দেশের মুখ্য আলোচকরা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিনের আলোচনা শুরু হবে।
গোয়েলের আশা, এই মাসেই প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। মার্চে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির ভারত সফরের সময় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।