সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিং নীতির জেরে বহু ভারতীয়র H-1B ভিসা সাক্ষাৎকার পিছিয়ে দিল মার্কিন দূতাবাস। ডিসেম্বরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পিছিয়ে গিয়েছে মার্চে। ঠিক কোথায় সমস্যা হতে পারে?

ভিসা সংক্রান্ত প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 December 2025 09:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের (US State Department) নতুন সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিং নীতি (Social Media Vetting Policy) কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিল H-1B ভিসা (H-1B Visa) সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে। ভারতে বহু আবেদনকারীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট হঠাৎ করে স্থগিত করে পরের বছর মার্চ মাসে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভারতের মার্কিন দূতাবাস (US Embassy India) এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
দূতাবাস জানিয়েছে, যাঁরা ই-মেল পেয়ে সাক্ষাৎকারের নতুন তারিখ জেনেছেন, তাঁদের সেই নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আসতে হবে। আগের নির্ধারিত তারিখে দূতাবাস বা কনসুলেটে পৌঁছলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দূতাবাসের বক্তব্য, “Arriving on your previously scheduled appointment date will result in your being denied admittance to the Embassy or Consulate.”
ব্লুমবার্গ (Bloomberg) সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহে যাঁদের সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকের অ্যাপয়েন্টমেন্টই মার্চ ২০২৬-এ ঠেলে দিয়েছে মার্কিন মিশন। তবে ঠিক কতজনের সাক্ষাৎকার পিছিয়েছে, তা জানা যায়নি।
এরই মধ্যে ব্যবসায়িক ইমিগ্রেশন আইনজীবী স্টিভেন ব্রাউন (Attorney Steven Brown) জানিয়েছেন, মার্কিন মিশন তাঁদের কাছে নিশ্চিত করেছে যে সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিংয়ের জন্যই বহু অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “দে হ্যাভ ক্যানসেলড অ্যা নাম্বার অফ অ্যাপয়েনমেন্টস ইন দ্য কামিং উইকস অ্যান্ড রিশিডিউলড দেম ফর মার্চ টু অ্যালাও ফর সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিং।”
কঠোর নতুন নিয়ম: সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল রাখতে হবে পাবলিক
নতুন ভেটিং নীতি অনুযায়ী, H-1B এবং H-4 ভিসা (H-4 Dependents) আবেদনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Social Media Accounts) ‘পাবলিক’ রাখতে হবে। ডিসেম্বর ১৫ থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি খতিয়ে দেখবেন, তাঁদের জাতীয় নিরাপত্তা (National Security) বা সার্বজনিক নিরাপত্তার (Public Safety) জন্য সেসব ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে,, “ভিসা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। সিদ্ধান্তও সেই মর্মে নেওয়া হয়েছে।”
ছাত্রছাত্রী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের ওপর এই ধরনের পরীক্ষা করা হত এর আগে। এবার তা বাড়িয়ে H-1B ক্যাটাগরিতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
H-1B-এর ওপর আরও চাপ
সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি নীতির ফলে H-1B ভিসা প্রক্রিয়ায় হল আরও কঠিন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন H-1B ভিসার ওপর এককালীন ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি ($100,000 Fee) চাপায়, যা ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
আফগান নাগরিকের গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প সরকার গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও অন্যান্য ভিসা প্রক্রিয়া ১৯টি “ঝুঁকিপূর্ণ দেশ (Countries of Concern)”-এর নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
ভারতীয় আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা বাড়ল
এই আকস্মিক পরিবর্তনের জেরে ভারতীয় আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ল খুব স্বাভাবিকভাবে। অনেকেই বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বা শিফট করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সাক্ষাৎকার স্থগিত হওয়ায় চাকরি এবং ভিসা প্রক্রিয়াতেই বিলম্ব হচ্ছে।