দূতাবাসের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, কেউ যদি অবৈধভাবে আমেরিকায় থাকেন বা ভিসা জালিয়াতির মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে ‘গুরুতর ফৌজদারি শাস্তি’ দেওয়া হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 July 2025 23:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ভিসা হাতে পেলেই বিদেশ যাত্রার সব বাধা কেটে গিয়েছে, এমন ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ ভিসা (American Visa) মঞ্জুর হলেই সব শেষ হয়ে যায় না বরং শুরু হয় আরও কঠিন নজরদারি। শনিবার ফের ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশে এমনই কড়া বার্তা দিল দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস (US embassy in India issues fresh visa revocation)।
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, 'ভিসা ইস্যু হয়ে গেলেই মার্কিন ভিসা পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ হয় না। ভিসা প্রাপকের গতিবিধির উপর নজরদারি চালু থাকে এবং কেউ যদি মার্কিন আইন বা অভিবাসন নীতি লঙ্ঘন করেন, তাঁর ভিসা বাতিল করে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।' মার্কিন প্রশাসনের মতে, ভিসা কোনও অধিকারের বিষয় নয়, এটি একটি সুযোগ। সেই সুযোগের অপব্যবহার হলে ফল হতে পারে ভয়ঙ্কর। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এমন একাধিক হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, কেউ যদি অবৈধভাবে আমেরিকায় থাকেন বা ভিসা জালিয়াতির মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে ‘গুরুতর ফৌজদারি শাস্তি’ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভিসা আবেদনকারীকে নিজের শেষ পাঁচ বছরের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল (যেমন- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ইউটিউব) ডিএস-১৬০ ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। সেই সব অ্যাকাউন্ট ও পোস্ট খুঁটিয়ে দেখা হবে। আমেরিকাবিরোধী মনোভাব বা সন্দেহজনক কিছু পেলে আবেদন খারিজ হবে, এমনকি ভবিষ্যতেও তিনি মার্কিন ভিসার জন্য অযোগ্য হয়ে যাবেন (US embassy in India issues fresh visa revocation)।
এই নিয়ম শুধু পর্যটক বা কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নয়, ছাত্রছাত্রী, গবেষক, স্কলারশিপ প্রার্থী, এমনকি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিতে ইচ্ছুক সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সামাজিক মাধ্যমে কী পোস্ট করছেন, কার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, সবই খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসেই ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বলেছিলেন, 'যাঁরা আমেরিকায় আসবেন, তাঁরা যাতে মার্কিন সমাজ, সরকার, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সম্মান করেন, তা নিশ্চিত করা হবে।' সেই থেকেই ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিদেশি পড়ুয়া ভর্তিতেও কঠোর নিয়ম আনা হয়।