গত ১২ জুন আমদাবাদে বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি (Boeing 787 Dreamliner)। টেক অফের মাত্র মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মাথায় ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 12 July 2025 22:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার (Air India Plane Crash) প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জল্পনা। পাইলটের ভুল, ইচ্ছাকৃত ফুয়েল সুইচ (Fuel Control Switch) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এমন নানা সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। কিন্তু তদন্ত নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর পরামর্শ দিলেন এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল গ্রুপ ক্যাপ্টেন অরবিন্দ হান্ডা (অবসরপ্রাপ্ত)। তাঁর মতে, বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক রিপোর্ট এবং চূড়ান্ত রিপোর্টে অনেক সময়েই বড় ফারাক দেখা যায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এএআইবি-র প্রাক্তন প্রধান বলেন, 'এই তদন্ত সহজ হবে না। বিমানটির প্রায় ৯০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে (Air India Plane Crash)। ফলে বহু তথ্য হয়তো খুঁজে পাওয়াই যাবে না। আর তদন্তকারীদের একে একে সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখতে হবে।'
গত ১২ জুন আমদাবাদে বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি (Boeing 787 Dreamliner)। টেক অফের মাত্র মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মাথায় ঘটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী, দু'জন পাইলট এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছাড়াও মাটিতে থাকা ১৯ জনের প্রাণ গিয়েছে এই দুর্ঘটনায়। অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বিমানে থাকা মাত্র একজন যাত্রী।
এএআইবি-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমদাবাদ বিমানবন্দর (Ahmedabad Airport) থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লন্ডনগামী বিমানের দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচও একসঙ্গে বন্ধ (কাট অফ) হয়ে যায়। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলটকে আরেকজনকে জিজ্ঞেস করতে শোনা যায়, 'তুমি কেন বন্ধ করলে?', যার উত্তরে অন্যজন বলেন, 'আমি কিছু করিনি।'
এই তথ্য সামনে আসার পরই অভ্যন্তরীণ ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে অরবিন্দ হান্ডা বলেন, 'প্রাথমিক রিপোর্টে শুধু ঘটনার বর্ণনা থাকে। এ থেকে কোনও দিকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একে একে সব প্রযুক্তি, সিস্টেম, পরিস্থিতি যাচাই করে তবেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।'
তদন্তে ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য যথেষ্ট বলেই মনে করছেন এএআইবি-র প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল। তাঁর মতে, সব ডেটা ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে, আলাদা করে কোনও নির্মাতার কাছে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করতে ১২ মাস সময় পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা এখনই সম্ভব নয়, কারণ অনেক বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়।