আমেরিকার ওই কমিশন সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ' হিসেবেও চিহ্নিত করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে বলেছে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টির সঙ্গে অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্য নীতিকে যুক্ত করতে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 16 March 2026 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (USCIRF) ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) শাসক দল এবং ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (R&AW)-র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে। আমেরিকার ওই কমিশন সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতকে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ' হিসেবেও চিহ্নিত করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে বলেছে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টির সঙ্গে অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্য নীতিকে যুক্ত করতে।
মার্কিন সংস্থাটি আরএসএসের অনুমোদিত সংস্থা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ একাধিক সংগঠনের সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছে। তবে আরএসএসের বিষয়ে মার্কিন সংস্থাটির সুপারিশ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস ভারতের শাসক দল বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে গোটা বিশ্বে পরিচিত। সভাপতি সঙ্গ পরিবার সম্পর্কে এমন সুপারিশ বিজেপি সহ গেরুয়া শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তিকর। অবশ্য মার্কিন সংস্থাটি অতীতে একাধিকবার ভারতে সংখ্যালঘুর অধিকার বিপন্নতার অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে। আরএসএস ও ওই সংগঠনের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবারই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন তাদের রিপোর্টে আলাদা করে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনটিকে নিশানা করল।
বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং আরএসএস (RSS) এখনও পর্যন্ত মার্কিন সংস্থাটি (USCIRF)-এর রিপোর্ট নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে অতীতে ভারত একাধিকবার এই সংস্থার সুপারিশ তথা মন্তব্যকে ভিত্তিহীন, অনাকাঙ্ক্ষিত বলে খারিজ করে। বার্ষিক রিপোর্টে মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (USCIRF) যুক্তি দিয়েছে যে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেছে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়গুলিকে 'টার্গেট' করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত বিগত কয়েক বছর যাবত বড়দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গির্জায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। মণিপুরে জাতি দাঙ্গায় প্রায় আড়াইশোর বেশি গির্জায় হামলা হয় বলে একাধিক রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে। এইসব ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
USCIRF-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কয়েকটি রাজ্য কঠোরতর কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করে ধর্মান্তর বিরোধী আইন প্রবর্তন বা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের প্রশাসকেরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলি বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না।
হালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক (pushback) বা ঠেলে সে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে তুমুল শোরগোল হয়েছে। পরে জানা যায়, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া অনেকেই আসলে ভারতীয় নাগরিক। মার্কিন সংস্থাটি রিপোর্টে অবশ্য অনুপ্রবেশকারীর পরিবর্তে শরণার্থী শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওয়াকফ আইন সংশোধনের সমালোচনা আছে। ইসলামিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, ওয়াকফ আইন সংশোধন করে ভারত সরকার মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে।
USCIRF মহারাষ্ট্র, ওডিশা এবং উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের উল্লেখ করে সহিংসতার জন্য আরএসএসের-এর সহযোগী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো গোষ্ঠীগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছে।
মার্কিন কমিশনের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্র সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলিতে নিউ ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক। USCIRF ট্রাম্প সরকারকে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন (Arms Export Control Act)-এর ৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করার সুপারিশ করেছে। বলেছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান ভয়ভীতি ও হয়রানির ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা উচিত।
মার্কিন আইন অনুযায়ী কোন সংস্থা বা ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ওই দেশ সফরের অনুমতি দেওয়া হয় না। বাতিল হয়ে যায় আমেরিকায় কোন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি। প্রসঙ্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরএসএস হিন্দু সংস্কৃতির প্রসারের কাজ করে