গত তিন বছরে তিনি ১,০০০-র বেশি মুসলিম যুবককে হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরের লক্ষ্যে প্রেমের ফাঁদে ফেলার জন্য অর্থ জুগিয়েছেন।

ছাঙ্গুর বাবা
শেষ আপডেট: 14 July 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) স্বঘোষিত ধর্মগুরু ছঙ্গুর বাবা (Chhangur Baba) ওরফে জালালউদ্দিনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগে সরগরম গোটা রাজ্য। সূত্রের খবর, গত তিন বছরে তিনি ১,০০০-র বেশি মুসলিম যুবককে হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরের লক্ষ্যে প্রেমের ফাঁদে ফেলার জন্য অর্থ জুগিয়েছেন। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS)।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ছঙ্গুর বাবা এই চক্র চালাতে মুসলিম দেশগুলির কাছ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছেন। এই অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে মূলত দরিদ্র, বিধবা ও অসহায় হিন্দু মেয়েদের নিশানা করে ‘লাভ জিহাদ’-এর মাধ্যমে ধর্মান্তর করানোর জন্য।
ছঙ্গুর বাবা টাকা পাঠাতেন উত্তরপ্রদেশের সাতটি জেলার মুসলিম যুবকদের। বিশেষ করে ভারত-নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে এই অর্থ পৌঁছত। গোটা অর্থের লেনদেন হত নগদে অথবা তাঁর ছেলে ও সহযোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মারফত।
এটিএস ইতিমধ্যে ছঙ্গুর বাবাকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিতু ওরফে নাসরিন, যিনি বিদেশ থেকে আসা তহবিলের দেখভাল করতেন বলে অভিযোগ। তাঁদের সাত দিনের এটিএস হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ছঙ্গুর বাবার ছেলে নবীন ওরফে জামালউদ্দিন এবং অপর এক সহযোগী মেহবুব আগেই গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে লখনউয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা ছঙ্গুর বাবার নামে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), শারজা ও দুবাইয়ে থাকা সন্দেহজনক বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের দিকেও নজর দিচ্ছেন।
এছাড়াও ছঙ্গুর বাবার নামে বলরামপুরে অবৈধভাবে নির্মিত একটি ৫ কোটি টাকার প্রাসাদসদৃশ বাড়ি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ৪০টি ঘর নিয়ে সেই মার্বেল গেটওয়ালা বিলাসবহুল ভবন তিনদিনে ভেঙে ফেলা হয় ১০টি বুলডোজার দিয়ে।
তদন্তে ইতিমধ্যে ছঙ্গুর বাবা, নাসরিন, নবীন এবং মেহবুবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিগত তিন বছরে বিশাল অঙ্কের লেনদেনের হদিস মিলেছে। সেই সঙ্গে যাঁরা ছঙ্গুর বাবার কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার গভীরতা বুঝে তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। গোটা নেটওয়ার্কের মূল শিকড় ও বিদেশি তহবিলের উৎস খুঁজে বের করাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।