অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। প্রায়ই ঝগড়া করে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন, পরে আবার ফিরে আসতেন। গত বছরের জুলাইয়ে স্ত্রী তাঁদের ছ’মাসের সন্তানকে রেখে বাবা–মায়ের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান।

ছবি-এআই
শেষ আপডেট: 19 March 2026 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের এক সাধারণ পরিবারের গল্প যেন হঠাৎই ক্রাইম থ্রিলারের মোড় নিয়েছে (Uttar Pradesh Case)। মোবাইলের তিনটি শব্দ, 'সিমেন্ট এবং ড্রাম' (cement aur drum), একজন স্বামীকে এতটাই ভয় পাইয়ে দিল যে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের স্ত্রীকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে চলে যেতে দিলেন। সন্দেহ, আতঙ্ক আর সম্পর্কের ভাঙনের এই ঘটনাই এখন চর্চায়।
কীভাবে শুরু হল সন্দেহ?
উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh Case) বাসিন্দা রাজকুমারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। প্রায়ই ঝগড়া করে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন, পরে আবার ফিরে আসতেন। গত বছরের জুলাইয়ে স্ত্রী তাঁদের ছ’মাসের সন্তানকে রেখে বাবা–মায়ের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। কিন্তু রাজকুমারের দাবি, তিনি আসলে এক মাস ধরে প্রেমিকের সঙ্গেই ছিলেন (Wife's extra marital affairs)। ওই ব্যক্তির দাবি, “আমি কিছু বললেই প্রমাণ চাইত। কোনওদিন স্বীকারই করত না।”
মোবাইল ফোনেই মিলল ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত
সম্প্রতি একদিন স্ত্রী ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সুযোগে রাজকুমার ফোনটি কেড়ে নেন। ফোন ঘেঁটে তিনি দেখেন, কিছু নগ্ন ছবি, ফেসবুকে শেয়ার করা নানান খুনের গল্প, সেগুলোর ক্যাপশনে লেখা, 'cement aur drum', এমনকি তাঁর নিজের একটি ছবির সঙ্গে লেখা, 'নীল ড্রাম এবং সিমেন্ট' (Neela Drum Aur Cement)। এই লেখাগুলো দেখেই রাজকুমার চমকে ওঠেন (Social Media Post)। তাঁর মনে হয়, এসব আসলে তাঁকে খুন করে দেহ গুম করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত।
পুরোনো ভয়ঙ্কর ঘটনার ছায়া
'নীল ড্রাম আর সিমেন্ট'- এই শব্দবন্ধ রাজকুমারের ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়, কারণ গত বছর মার্চে মীরাটে এক ভয়াবহ খুনের ঘটনায় ঠিক এমনই পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছিল। সেখানে এক তরুণী এবং তাঁর প্রেমিক স্বামীকে খুন করে দেহ ১৫ টুকরো করে নীল ড্রামের ভেতরে সিমেন্ট ভরে লুকিয়েছিল। সেই ঘটনার কথা মনে পড়তেই তিনি ভাবেন, তাঁর ক্ষেত্রেও এমন কিছু হতে পারে।
স্ত্রীর হুমকি ও সম্পর্কে ভাঙন
রাজকুমারের অভিযোগ, স্ত্রী তাঁকে নিয়মিত হুমকি দিতেন, “তোকে নীল ড্রামে ভরে দেব।” বাড়ির কাজ করতেন না। সন্তানের ময়লা জামাকাপড় ছুড়ে ফেলে দিতেন এবং বারবার বলতেন, তিনি প্রেমিকের সঙ্গেই থাকতে চান। এমনকি ফোন নেওয়ার পরও স্ত্রী হুমকি দিয়েছিলেন তাঁকে এবং তাঁর ভাইদের খুন করে ফেলবে।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাজকুমার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। মধ্যস্থতায় স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে নয়, প্রেমিকের সঙ্গেই থাকতে চান। এরপর রাজকুমার তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করেন এবং অবশেষে স্ত্রীকে সেখানেই যেতে দেন। অত্যন্ত ভয়, মানসিক চাপে ভরা এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে রাজকুমার বলেছেন। “আমার প্রাণটাই যেন বাঁচালাম।”