বিতর্কে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনিও প্রশ্ন তোলেন, যে বই এখনও প্রকাশ হয়নি, সেখান থেকে উদ্ধৃতি কীভাবে দেওয়া সম্ভব। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সংবাদপত্রের কাটিং, বই বা অন্য কোনও অননুমোদিত সূত্র উদ্ধৃত করা যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনাথ সিং এবং রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 2 February 2026 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার বাজেট অধিবেশনের (Union Budget Session 2026) মধ্যে লোকসভায় চরম উত্তেজনার ছবি দেখা গেল। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বক্তব্য শুরু করতেই পরিস্থিতি দ্রুত অশান্ত হয়ে ওঠে।
অপ্রকাশিত একটি বইয়ের অংশ উদ্ধৃত করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক, যা মুহূর্তের মধ্যে সংসদের কার্যক্রমকে অচল করে দেয়।
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানের (Ex Army Chief Manoj Naravane) লেখা একটি বইয়ের (Unpublished Book) অংশ উল্লেখ করেন। সেই সময়ই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) উঠে দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, ওই বই এখনও প্রকাশিত হয়নি। সংসদের ভিতরে অপ্রকাশিত কোনও বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যায় না বলেই তিনি স্পষ্ট করে দেন। রাজনাথ সিং বলেন, বইটি প্রকাশিত হয়নি - এই বিষয়ে তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।
এর পরেই বিতর্কে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনিও প্রশ্ন তোলেন, যে বই এখনও প্রকাশ হয়নি, সেখান থেকে উদ্ধৃতি কীভাবে দেওয়া সম্ভব। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সংবাদপত্রের কাটিং, বই বা অন্য কোনও অননুমোদিত সূত্র উদ্ধৃত করা যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, রাহুল গান্ধীর উচিত বইয়ের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
সরকারি পক্ষের আপত্তিকে সমর্থন করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Speaker Om Birla)। সংসদের নিয়ম ও রীতি উল্লেখ করে তিনি জানান, এমনকি কোনও বই প্রকাশিত হলেও, সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলে তা উদ্ধৃত করা অনুচিত।
তবে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, ‘দ্য ক্যারাভান’ পত্রিকায় ওই বই থেকে প্রকাশিত অংশ সম্পূর্ণ সত্য এবং নির্ভরযোগ্য। তাঁর কথায়, সেই অংশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নামও রয়েছে। কংগ্রেস সাংসদরা স্পিকারকে অনুরোধ করেন, সরকার পরে উত্তর দিক, কিন্তু আগে রাহুলকে কথা বলতে দেওয়া হোক। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালও এই দাবি তোলেন।
এদিকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সংসদের বিধি উদ্ধৃত করে ফের আপত্তি জানান। স্পিকার বিড়লা আরও একবার স্পষ্ট করেন, বই প্রকাশিত হোক বা না হোক, সংসদের আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনও বই উদ্ধৃত করা যাবে না।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পক্ষে দাঁড়ান সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদব। তাঁর মতে, চিন সংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেই প্রসঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সংসদে শোরগোল চরমে ওঠে। বিরোধীরা প্রতিবাদে সরব হন, আর সরকারি শিবির নিয়ম মানার দাবিতে অনড় থাকে। প্রায় ৪৫ মিনিটের অচলাবস্থার পর শেষ পর্যন্ত লোকসভা মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। অধিবেশন স্থগিত হওয়ার পরে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন অমিত শাহ ও রাজনাথ সিং।