রামপুর বাইপাসে পুলিশ
শেষ আপডেট: 25 December 2024 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন খলিস্থানপন্থী জঙ্গিকে খতম করার পর থেকেই অশান্তির পারদ চড়তে শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটে। জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম গুরবিন্দর সিং, জসনপ্রীত সিং, বীরেন্দ্র সিং। এরা প্রত্যেক্যেই খলিস্তানপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠন খলিস্তান কমান্ডো ফোর্সের সদস্য। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সেটিতে একটি অচেনা গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে।
মঙ্গলবার রাতে রামপুর বাইপাসের ঘটে যায় দুর্ঘটনা। পিলিভিট থেকে পাঞ্জাবে জঙ্গিদের দেহ নিয়ে আসার সময় এমন কাণ্ড ঘটে। আচমকাই বাইপাসের উপর অ্যাম্বুলেন্সটিকে সজোরে ধাক্কা মারে অচেনা গাড়িটি। অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মৃতদেহগুলি অক্ষত ছিল। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সেগুলি অন্য গাড়িতে স্থানান্তর করে পুলিশ।
রামপুর জেলার পুলিশ সুপার বিদ্যাসাগর মিশ্র জানান, পিলিভিট থেকে পঞ্জাবের দিকে তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির মৃতদেহ নিয়ে আম্বুলেন্সটি আসছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে রামপুর বাইপাসে একটি গাড়ি সেটিতে ধাক্কা মেরে পালায়। ঘটনায় হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
গোপনসূত্রে পঞ্জাব পুলিশের কাছে খবর ছিল ওই ৩ খলিস্তানি জঙ্গি উত্তর প্রদেশের পিলিভিটে আশ্রয় নিয়েছে। সেই খবর পেতেই তারা উত্তর প্রদেশ পুলিশকে জানায়। এই জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পায় উত্তর প্রদেশের পুরানপুর পুলিশ স্টেশন। এই পুলিশ স্টেশনের আওতার এলাকাতেই জঙ্গিরা ঘোরাফেরা করছিল বলে খবর আসে। পুরানপুরে কিছু সন্দেহজনক জিনিস নিয়ে ওই ৩ জন ঘোরাফেরা করছিল বলেও খবর পায় পুলিশ। এদিকে, খবর পেতেই ওই ৩ অভিযুক্তকে আলাদা করে নেয় পুলিশ। সোমবার সকালেই দুই পক্ষের মধ্যে গুলির যুদ্ধ চলে। তখনই পুলিশের গুলিতে ওই ৩ জঙ্গি মারা যায় বলে খবর।
পাকিস্তানের মদতপুস্ট খলিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্সের সদস্য ছিল ওই তিন জন। পঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব বলেন, 'পঞ্জাবের সীমান্ত এলাকায় নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। সেই সূত্রেই পুলিশ পোস্টে গ্রেনেড রাখা হয়। তারপরই তল্লাশি শুরু হয়। পিলিভিটের পুরাণপুর পুলিশ ও পঞ্জাব পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ওই তিন জঙ্গিকে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা করা হয়।'
জঙ্গিদের পুলিশ খুঁজছিল গত ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকেই। সেদিন পঞ্জাবের গুরুদাসপুরের সীমান্ত শহর কালানৌর থানার বকশিওয়ালে একটি গ্রেনেড হামলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এর দায় নেয় খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গ্রেনেড হামলার জন্য সন্ত্রাসবাদীরা একটি অটো ভাড়া করেছিল। পুলিশ সেই অটোকে বাজেয়াপ্ত করে। ফরেনসিক দলও তদন্ত করে জানতে পারে, গ্রেনেড নিক্ষেপের জন্য একটি অটো ব্যবহার করা হয়েছিল।