উত্তরপ্রদেশের কানপুরে প্রেমিক ও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ২৩ বছরের ছেলেকে খুন করলেন এক মহিলা। মায়ের প্রেমের বিরোধিতা করেছিলেন তাই এত আক্রোশ।

বাঁদিকে প্রদীপ, মাঝে তাঁর মা ও ডানদিকে ময়াঙ্ক (ছবিটি সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 31 October 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমিক আর তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ২৩ বছরের ছেলেকে হাতুড়ি মেরে খুন করলেন মহিলা। তারপর সেই খুনকে সাজানো হল ‘রোড অ্যাক্সিডেন্ট’-এর মতো করে, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। কারণ, ছেলেটি তাঁর মায়ের সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন এবং সেই সঙ্গে লোভ ছিল মোটা বীমার টাকারও। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাতে।
গত ২৬ অক্টোবর রাতে গাড়ির মধ্যে খুন করা হয় ২৩ বছরের প্রদীপ শর্মাকে। তাঁর মা অর্থাৎ ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর প্রেমিক ময়াঙ্ক ওরফে ঈশু কাটিয়া এবং ময়াঙ্কের ভাই ঋষি কাটিয়ার,এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রথমে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা ভেবে তদন্ত শুরু করেছিলেন আধিকারিকরা। কারণ, প্রদীপের দেহ উদ্ধার হয় কানপুর-এটাওয়া হাইওয়ের ধারে বালহারমাউ গ্রামের কাছে। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই প্রকাশ্যে আসে ভয়াবহ খুনের চক্রান্তের কথা।
দেরাপুর সার্কেল অফিসার জানিয়েছেন, প্রদীপের বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর মা না কি ময়াঙ্ক কাটিয়ারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি ছেলে। মায়ের থেকে দূরে সরে গিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এমনকি চাকরিও নেন অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে।
প্রদীপের এই আচরণে রেগে গিয়ে মা, ময়াঙ্ক এবং ময়াঙ্কের ভাই ঋষি মিলে তাঁকে খুনের ছক কষেন। খুন করবেন জেনে প্রদীপের নামে বেশ কয়েকটি বীমা পলিসি করেন তাঁরা দুজন।
২৬ অক্টোবর দীপাবলির ছুটিতে প্রদীপ যখন বাড়ি ফেরেন, তখন ময়াঙ্ক ও ঋষি তাঁকে ডিনারের অছিলায় নিজেদের ওয়াগনআর গাড়িতে নিয়ে বের হন। গাড়ির ভিতরেই প্রদীপের মাথায় বারবার হাতুড়ি চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়। তারপর দেহ ফেলে দেওয়া হয় হাইওয়ের ধারে, যাতে মনে হয় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে।
দেহ উদ্ধারের পর প্রদীপের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে, তাঁর কাকা ও দাদু সরাসরি অভিযোগ তোলেন ময়াঙ্ক ও ঋষির বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রদীপের মা তখনও দাবি করতে থাকেন যে, তাঁর ছেলে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে।
পুলিশের তদন্তে অবশেষে প্রমাণিত হয়, এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, ঠান্ডা মাথার খুন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে হাতুড়ি, একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি। পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারের পর গ্রেফতার হন ময়াঙ্ক ও ঋষি।
দেখা গেছে, এনকাউন্টারের সময় ঋষি পুলিশের ওপর গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে আহত হন তিনি। বর্তমানে ভর্তি হাসপাতালে।
পুলিশের দাবি, বীমার টাকা এবং প্রতিশোধ, এই দুই কারণেই আগে থেকে ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে খুন করা হয়।