স্টার্মার বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আজ গোটা বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়। সম্প্রতি দেশটি জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছে।

কিয়র স্টার্মার এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 9 October 2025 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের অর্থনীতি (Indian Economy) নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মার (UK PM Keir Starmer)। তিনি দাবি করে বলেছেন, ২০২৮ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি (3rd Largest Economy) হিসেবে উঠে আসবে। নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) পাশে দাঁড়িয়ে স্টার্মারের এই মন্তব্যকে অনেকেই দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক মন্তব্যের পাল্টা জবাব হিসেবে। কারণ কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে 'মৃত' (Dead Economy) বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
এদিন স্টার্মার বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আজ গোটা বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়। সম্প্রতি দেশটি জাপানকে (Japan) পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি দাবি করেন, ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে ভারত যে গতিতে এগোচ্ছে, তা অভূতপূর্ব। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর (Viksit Bharat) স্বপ্ন বাস্তবায়নের এই পথচলায় ব্রিটেন ভারতের সঙ্গী হতে চায়।
ভারতে তাঁর প্রথম সফরে এসে স্টার্মার জানান, “আমি যতটা সময় এখানে কাটিয়েছি, তা আমাকে নিশ্চিত করেছে যে ভারত নিজের লক্ষ্যে পৌঁছবেই। আমরা চাই, সেই যাত্রায় ব্রিটেন ভারতের সহযোগী হোক।” তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতে এসেছেন একশোরও বেশি ব্রিটিশ উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি - যা ব্রিটিশ ইতিহাসে ভারতের উদ্দেশে সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি দল বলে মনে করা হচ্ছে।
কয়েক মাস আগেই ট্রাম্প ভারতকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “আমি পরোয়া করি না, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করছে। তারা চাইলে নিজেদের মৃত অর্থনীতি নিয়ে ডুবে যাক।” সেই মন্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসন ভারতের পণ্যে শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। তবে এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ট্রাম্পের ওই দাবি কার্যত খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কেও আবারও উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে, স্টার্মারের এই সফর একইসঙ্গে কূটনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্রিটেন সফরের সময় যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল, এবার সেই চুক্তি নিয়ে আরও পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে ব্রিটেন ভারতীয় পোশাক, জুতো ও খাদ্যপণ্যে শুল্ক কমাবে, আর ভারত হুইস্কি, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সামগ্রীর মতো ব্রিটিশ পণ্যে শুল্ক হ্রাস করবে।
সবশেষে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকেও সমর্থন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা কমনওয়েলথ ও জি২০-তে একসঙ্গে কাজ করি। এখন সময় এসেছে ভারতকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তার প্রাপ্য মর্যাদার আসন দেওয়ার।”
রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও আফ্রিকান ইউনিয়নের পর এবার ব্রিটেনও ভারতের সেই দীর্ঘদিনের দাবির পক্ষে সমর্থন জানাল।