অভিযোগপত্রে মহিলা জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাঁর কিছু গয়না, মোজা এবং অন্তর্বাস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শেষ আপডেট: 27 December 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের উদয়পুরে এক চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ কাণ্ডে (Udaipur gang rape case) সামনে এল ভয়াবহ সব তথ্য। একটি আইটি সংস্থার মহিলা ম্যানেজারকে গাড়ির মধ্যেই গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সংস্থার সিইও ও আরও দুই শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন GKM IT-র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (CEO) জীতেশ প্রকাশ সিসোদিয়া, সংস্থার মহিলা এক্সিকিউটিভ হেড শিল্পা সিরোহি এবং তাঁর স্বামী গৌরব সিরোহি।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ওই মহিলা-সহ তিন অভিযুক্ত একে একে তাঁকে ধর্ষণ করেন। গাড়ির ড্যাশক্যামে পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তদের মধ্যে হওয়া কথোপকথনও রয়েছে (dashcam evidence)।
মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টে ধর্ষণের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গোপনাঙ্গে তীব্র যন্ত্রণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মহিলা জানিয়েছেন, ঘটনার পর তাঁর কিছু গয়না, মোজা এবং অন্তর্বাস খুঁজে পাওয়া যায়নি।
২০ ডিসেম্বর কী ঘটেছিল?
২০ ডিসেম্বর উদয়পুরের শোভাগপুরা এলাকার একটি হোটেলে জীতেশ সিসোদিয়ার জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ওই মহিলা ম্যানেজার। রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া পার্টি চলে রাত দেড়টা পর্যন্ত। উপস্থিত সকলেই, নির্যাতিতা-সহ, মদ্যপান করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
রাত দেড়টা নাগাদ ওই মহিলার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে, জীতেশ সিসোদিয়া, শিল্পা সিরোহি ও গৌরব সিরোহি তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
গাড়িতেই অচেতন হয়ে পড়েন নির্যাতিতা
এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৌরব সিরোহি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পিছনের সিটে ছিলেন শিল্পা সিরোহি, জীতেশ সিসোদিয়া এবং নির্যাতিতা। গাড়িটি ছিল অভিযুক্তদেরই একজনের।
পুলিশ জানিয়েছে, যাত্রাপথে গাড়ি থামিয়ে অভিযুক্তরা দোকান থেকে সিগারেটের মতো দেখতে একটি বস্তু কেনেন এবং তা ওই মহিলাকে দেন। সেটি ব্যবহারের পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
জ্ঞান ফিরে পেয়ে নির্যাতিতা নিজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর গাড়ির ড্যাশক্যাম পরীক্ষা করে দেখেন, সেখানে পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তদের মধ্যে হওয়া কথোপকথনও ড্যাশক্যামে ধরা পড়ে।
এই সমস্ত প্রমাণ হাতে নিয়েই ২৩ ডিসেম্বর তিনি পুলিশের কাছে যান এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত, চলছে তদন্ত
নির্যাতিতার অভিযোগ ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ জিতেশ সিসোদিয়া, শিল্পা সিরোহি এবং গৌরব সিরোহিকে গ্রেফতার করে। তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ড্যাশক্যামের ফুটেজ-সহ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।