আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ ওই যুবক ও তরুণীর পরিচয়। দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পরও তাঁদের বিয়ে হয়নি। সেই বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ২০২১ সালে তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 December 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্মতিসূচক সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হওয়ার পর সেটিকে ফৌজদারি মামলার রূপ দেওয়া হয়েছিল - এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ (Rape Allegation) ও সাজা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
জামিনের আবেদনের (Bail Plea) শুনানিতে আদালত আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, এই মামলায় অন্য রকম পরিণতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, তাঁদের 'মন বলছে' (Sixth Sense) যে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী আবার এক হতে পারেন। মার্চ মাসে এই মামলায় নোটিস জারি করা হয়েছিল।
আদালতের (Supreme Court) নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ ওই যুবক ও তরুণীর পরিচয়। দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পরও তাঁদের বিয়ে হয়নি। সেই বিলম্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই ২০২১ সালে তরুণী ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৩৭৬(২)(এন) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। বিচার শেষে ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। হাইকোর্টে জামিন না মেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন।
বিচারপতি ভি নাগরত্না ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ মামলার প্রকৃতি বোঝার জন্য চেম্বারে পৃথকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি, অভিযোগকারিণী এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার পর দু’পক্ষই বিবাহে সম্মত হন এবং পরিবারগুলিও সম্মতি জানায়। এই পরিস্থিতিতে আদালত শুধুমাত্র বিয়ের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
পরবর্তী শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, দম্পতি বর্তমানে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতে চলতি মাসে দেওয়া চূড়ান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট শুধু সাজা নয়, গোটা অভিযোগপত্রই বাতিল করে দেয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, বিয়ে বিলম্বিত হওয়ায় অভিযোগকারিণীর মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যার জেরেই ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। আদালতের ভাষায়, “সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে আমাদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি মূলত একটি সম্মতিসূচক সম্পর্ক, যা ভুল বোঝাবুঝির কারণে অপরাধে পরিণত হয়েছিল।”
একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্তকে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সাগর জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে তাঁর চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। সাসপেনশনের সময়ের সম্পূর্ণ বেতনও দিতে হবে। এই সংক্রান্ত সাসপেনশন অর্ডার প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলার মুখ্য চিকিৎসা আধিকারিককে।
এই রায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে - সম্মতিসূচক সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও ধর্ষণ আইনের সীমারেখা ঠিক কোথায়।