বিহারে ২০২৫ সালের বিধানসভা ভোটের আগে চলছে এই ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান। বিরোধীরা আগেই অভিযোগ তুলেছিল, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানি নাগরিকদের নাম ধরা পড়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এআই দিয়ে বানানো ছবি (প্রতীকী)
শেষ আপডেট: 24 August 2025 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার ঠিক তিন বছর পরে ভারতে এসেছিলেন পাকিস্তানের দুই মহিলা। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়ল, লিস্টে জ্বলজ্বল করছে তাঁদের নাম। ঘটনার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে, আর নির্বাচন কমিশন তাঁদের নাম মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বিহারে যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চলছে, সেখানে এই ঘটনা সামনে আসে। ভুয়ো ভোটার ও মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয় জুলাইয়ে। তার মধ্যেই ভেসে ওঠে, ভাগলপুরের বাসিন্দা বলে পরিচিত দুই মহিলা আসলে পাকিস্তানের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে এক জন, ইমরানা খানম, ১৯৫৬ সালে ভারতে আসেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ভিসা পান।
বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া ইমরানা এখন অসুস্থ। বুথ লেভেল অফিসার ফারজানা খানম জানালেন, ‘ওঁর অবস্থার কারণে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। কিন্তু নথি যাচাই করে দেখি, পাসপোর্ট ১৯৫৬ সালের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ১১ অগস্ট একটি নোটিস পাই। তার ভিত্তিতেই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করি।’
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন বিহারের ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল করেছে, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, স্থানান্তরিত হয়েছেন বা অন্য কোনও কারণে যোগ্য নন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৪ অগস্ট প্রকাশিত সেই তালিকা এখন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে। জেলা অফিস, পঞ্চায়েত অফিস এবং সামাজিক মাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে জানাতে বলা হয়েছে।
বিহারে ২০২৫ সালের বিধানসভা ভোটের আগে চলছে এই ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান। বিরোধীরা আগেই অভিযোগ তুলেছিল, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানি নাগরিকদের নাম ধরা পড়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ করেছিলেন। সে প্রসঙ্গে কমিশন কড়া অবস্থান নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাহুলকে সাত দিনের মধ্যে হলফনামা বা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।