ছাব্বিশের ভোটের আগে জাতীয় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার এই 'বাছাই' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 24 August 2025 01:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের ভোটের আগে জাতীয় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার এই 'বাছাই' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে। এই ইস্যুতে এবার শাসক দলকে নিশানায় আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, 'এসআইআর, সিএএ-র ফুল ফর্ম বলতে পারবে না।' পহেলগামে নিহত কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারীর স্ত্রীকে সিএএ শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা বলেন, 'এখনও পর্যন্ত ৪০ হাজার মানুষ সিএএ-র আবেদন করেছেন। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। কিন্তু আজ অবধি কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হয়নি, যেখানে কাউকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।'
এনআরসি নিয়ে আগেই বিরোধিতা করেছে তৃণমূল (TMC)। এনিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, '২১-এ এনআরসি বলে বলে মুখ্যমন্ত্রী লাভ পেয়েছেন। এটা দিয়েই শান্ত্বনা দিয়ে ২৪-এ ভোট লড়েছেন, ২৬-এও একই কাজ করতে চান।' বিজেপি বিধায়কের দাবি, 'এভাবে শান্ত্বনা দিয়েই চাকরি বিক্রি করতে চান, ভোট চুরি করবেন, দুর্গা ঠাকুর ভাঙবেন...।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) একযোগে আক্রমণ করে বলেন, 'চুরির লাইসেন্সকে রিনিউয়াল করব। পরিবারবাদকে এগিয়ে নিয়ে যাব। নিজে রানি আছি, পরে ভাইপোকে রাজা করব।'
ভোটার তালিকায় (Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের চার সরকারি আধিকারিককে সাময়িক সাসপেন্ড (Suspend) করেছে নবান্ন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। যদিও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ কমিশনের কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন।
এনিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন কেবল কমিশন করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা মনোজ পন্থের অধিকার নেই।' অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং গ্রেফতারির দাবিও তোলেন বিরোধী দলনেতা।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে একাধিকবার বিঁধেছে বিজেপি। গতকাল দমদমের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও একবার অনুপ্রবেশ নিয়ে শাসক দলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এদিন শুভেন্দু নিজেও এই ইস্যুতে অভিযোগ করেন, 'বাংলায় ৫৪০ কিলোমিটার এলাকাতে ফেন্সিংয়ের জন্য জমি দেয়নি রাজ্য।'
প্রসঙ্গত, অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ইতিমধ্যেই একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার এখনও অরক্ষিত। কেন্দ্র জানিয়েছে, 'দু'দেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলার সীমান্ত ২ হাজার ১৬ কিলোমিটার।' যদিও অনুপ্রবেশ নিয়ে কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় তুলেছে রাজ্য।