এদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন চিন সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উদ্ধব ঠাকরে। তিনি বলেন, “চিন তো পাকিস্তানের ‘অলওয়েদার ফ্রেন্ড’। তাহলে ঠিক করা হোক, কে আমাদের বন্ধু আর কে শত্রু?”

উদ্ধব ঠাকরে
শেষ আপডেট: 7 August 2025 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করলেন উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray)। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে শিবসেনা (উদ্ধব বলয়)-এর প্রধান বলেন, "ট্রাম্প আমাদের দেশকে নিয়ে তামাশা করছেন।" কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, "আমাদের একটা শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দরকার।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের উপর মোট শুল্কভার দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ান তেল আমদানির মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা বাড়ছে, আর তাতেই সুবিধা পাচ্ছে ভারত। অথচ ইউরোপ বা আমেরিকা নিজেরাই রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
এই পরিস্থিতিকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে ভারত সরকার। তবে বিরোধী শিবির ট্রাম্পের ঘোষণাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন চিন সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উদ্ধব ঠাকরে। তিনি বলেন, “চিন তো পাকিস্তানের ‘অলওয়েদার ফ্রেন্ড’। তাহলে ঠিক করা হোক, কে আমাদের বন্ধু আর কে শত্রু?” তাঁর কটাক্ষ, “একসময় ‘চিনের পণ্য বর্জন’ বলা হয়েছিল। এখন আবার মোদী চিনে যাচ্ছেন কেন?”
এই বিতর্কের মধ্যেই আজ দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বড় বৈঠক ডেকেছেন রাহুল গান্ধী। তাতে উদ্ধব ঠাকরে ছাড়াও শরদ পওয়ার, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব-সহ প্রায় ডজনখানেক বিরোধী নেতা অংশ নিচ্ছেন। সকালে রাহুল নিজেও ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে ‘অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেল’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
রাজ ঠাকরে কি ওই বৈঠকে থাকবেন? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে উদ্ধব বলেন, “আমরা দুই ভাই যথেষ্ট সক্ষম। আমাদের যা করার আমরা করব। কোনও তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন নেই।”
দীর্ঘ দুই দশক আগে রাজ ও উদ্ধব ঠাকরের মধ্যে মতানৈক্যের জেরে শিবসেনা ভাগ হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মারাঠি গর্ব ও ভাষা-আন্দোলনের ইস্যুতে তাঁরা কাছাকাছি এসেছেন। এ প্রসঙ্গে উদ্ধব স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনও ভাষাকে ঘৃণা করি না। কিন্তু আমাদের উপর কোনও ভাষা চাপিয়ে দেবেন না।”