রবিবার ছিল তাঁর তুতো ভাই শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে 'মাতোশ্রী'তে গিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান ও গোলাপের তোড়া উপহার দেন।

উদ্ধবের জন্য গোলাপের তোড়া নিয়ে হাজির রাজ
শেষ আপডেট: 27 July 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ বছর পর 'মাতোশ্রী'তে পা রাখলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। রবিবার ছিল তাঁর তুতো ভাই শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে 'মাতোশ্রী'তে গিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান ও গোলাপের তোড়া উপহার দেন।
রাজ ঠাকরের সঙ্গে ছিলেন দলের সিনিয়র নেতা বালা নন্দগাঁওকর ও নীতিন সরদেশাই। বাড়ির ভেতরে রাজ ও উদ্ধব একসঙ্গে একটি ছবির জন্য পোজ দেন, যার পেছনে ছিলেন বালাসাহেব ঠাকরের প্রতিকৃতি। রাজ ঠাকরে বালাসাহেবের বিখ্যাত চেয়ারের কাছেও গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক মহলে দেখা হচ্ছে দুই ঠাকরের মধ্যে বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক দূরত্বের পরে এটা তাদের সম্পর্ক মজবুত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে রাজ ঠাকরে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষবার মাতোশ্রীতে গিয়েছিলেন ২০১২ সালে, বালাসাহেবের জীবনের শেষ সময়ে। এরপর ২০১৯ সালে ছেলের বিয়ের আমন্ত্রণ জানাতে অল্প সময়ের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।
মাত্র কিছুদিন আগে দুই ভাই ২০ বছরের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে একটি জনসভার মঞ্চে উপস্থিত হন। মুম্বইয়ের ওরলিতে মারাঠি পরিচিতি ও হিন্দি ভাষার বিরোধিতায় তাঁরা একমত হয়ে একসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। ওই সমাবেশে উদ্ধব ঠাকরে বলেন, "আমরা একসঙ্গে এসেছি এবং একসঙ্গেই থাকব। আমরা একত্র হয়েছি মারাঠিদের স্বার্থ রক্ষার জন্য।"
রাজ ঠাকরে রসিকতা করে বলেন, "যেটা বালাসাহেবও পারেননি, সেটা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস– আমাকে আর উদ্ধবকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছেন।" দুই নেতা জানিয়েছেন, আসন্ন ২৯টি পুরনিগমের নির্বাচনে একত্রে লড়াই করার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধব ঘোষণা করেন, "আমরা মুম্বই পুরসভা ও মহারাষ্ট্র পুনরুদ্ধার করব।"
এর আগে এমএনএসের তিন দিনের ইগাটপুরি সম্মেলনে রাজ ঠাকরে দলের নেতাদের বলেন, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সঙ্গে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময় মতো নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, রাজ ঠাকরে ২০০৬ সালে শিবসেনা থেকে বেরিয়ে এসে গড়ে তোলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা। সেই থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক ও পারিবারিক দূরত্ব বেড়েই চলেছিল। রবিবারের এই সফর দুই ঠাকরের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।