পাকিস্তান যেখানে সদস্যপদ নিশ্চিত করেছে, সেখানে ভারতের অনুপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ।

শেষ আপডেট: 22 January 2026 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বৃহস্পতিবার তাঁর প্রস্তাবিত 'বোর্ড অফ পিস' (Board of Peace) উদ্বোধন করেন। কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেনি ভারত (India absent in Trump Board of Peace Davos)। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ট্রাম্পের পাশেই বসে সনদে সই করেন (Pakistan joins Board of Peace) - যা উদ্যোগটির উদ্দেশ্য এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত সেই অনুষ্ঠানে দেশনেতারা জড়ো হন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে এক টেবিলে বসে সনদে সই করেন। শরিফ ট্রাম্পের ডানদিকে বসেন, হাত মেলানোর পালা মিটলে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তার পর সই করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, নয়াদিল্লি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চুপ - এমনটাই জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এক সূত্র। ৩৫টি দেশ ওই সনদে সই করেছে তবে ফ্রান্স থেকে শুরু করে ব্রিটেন, চিন, জার্মানি-সহ একাধিক বড় দেশও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল।
পাকিস্তান যেখানে সদস্যপদ নিশ্চিত করেছে, সেখানে ভারতের অনুপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি বহুবার সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় পাকিস্তানের ভূমিকার কথা তুলেছে, বিশেষ করে গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর।
রাজনৈতিক মহলের মত, জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গ বিবেচনায় ভারত প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি, প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ভারত বরাবর দুই-রাষ্ট্রের মধ্যে সমাধানকেই সমর্থন করে এসেছে। পাশাপাশি, ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের স্বীকৃত সীমানা মেনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং নিরাপত্তাই ভারতের সমর্থন পেয়েছে।
পাকিস্তান ছাড়াও আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরিন, বেলারুশ, মিশর, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব ও ভিয়েতনাম সদস্য হয়েছে। জার্মানি, ইতালি, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, স্লোভেনিয়া, তুরস্ক ও ইউক্রেন এখনও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
এই অনুষ্ঠানেই ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এড়ানো গিয়েছিল, যা এর আগেও নয়াদিল্লি বারবার অস্বীকার করে এসেছে।
ট্রাম্প বলেন, “দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ থামাতে পেরে আমরা খুশি।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, এতে “১ থেকে ২ কোটি প্রাণ বাঁচানো গেছে।” প্রসঙ্গটি মে ২০২৫–এর ‘অপারেশন সিঁদুর’, যখন ভারত পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোয় নিখুঁত হামলা চালিয়েছিল।
‘বোর্ড অব পিস’—লক্ষ্য ও বিস্তার
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংস্থা সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, আইনসম্মত শাসন ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। শুরুতে গাজায় পুনর্গঠন তদারকি করতে ভাবা হলেও, সনদে বৃহত্তর ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হলে আমরা অনেক কিছু করতে পারব, জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই।” তবে একাধিক দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আশঙ্কা, এতে বিশ্ব কূটনীতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা খর্ব হতে পারে।
আপাতত ফ্রান্স ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে না বলেছে, ব্রিটেন আপাতত যোগ দিচ্ছে না, চিন অবস্থান জানায়নি। রাশিয়া প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে এবং প্যালেস্টাইনের সহায়তায় অর্থ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
হোয়াইট হাউস একটি নির্বাহী বোর্ড ঘোষণা করেছে, যেখানে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও মার্ক রোয়ান প্রমুখ। এই বোর্ড ‘National Committee for the Administration of Gaza’–এর তদারকি করবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। একদিকে ইজরায়েল বলছে, হামাস শেষ জিম্মির দেহ ফেরাতে দেরি করছে, অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করছে, মানবিক সঙ্কটের মাঝেও সাহায্য আটকে রাখা হচ্ছে।
এই আবহে, দাভোসে ভারতের অনুপস্থিতি ও পাকিস্তানের উপস্থিতি - উদ্যোগটির কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।