মার্কিন সেনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর এটিই ছিল ভারতের উদ্দেশে সার্জিয়োর প্রথম মন্তব্য। তিনি বর্তমানে মার্কিন উপ-পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট ও রিসোর্সেস) মাইকেল জে. রিগাসের সঙ্গে ছ’দিনের সফরে দিল্লিতে রয়েছেন।
.jpg.webp)
মোদী-সার্জিও বৈঠক
শেষ আপডেট: 11 October 2025 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-মার্কিন সম্পর্ক যখন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কবিধির কারণে টানাপড়েনে (India US relations), ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত সার্জিয়ো গোর (Sergio Gor and PM Modi meeting)। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, "প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি আগামী দিনের জন্য বেশ আশাবাদী।"
মার্কিন সেনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর এটিই ছিল ভারতের উদ্দেশে সার্জিয়োর প্রথম মন্তব্য। তিনি বর্তমানে মার্কিন উপ-পরিচালক (ম্যানেজমেন্ট ও রিসোর্সেস) মাইকেল জে. রিগাসের সঙ্গে ছ’দিনের সফরে দিল্লিতে রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (India PM Narendra Modi) এক্স-এ পোস্ট করে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়েছেন। পোস্টে দেখা যায়, মোদী ও ট্রাম্পের একটি যুগ্ম সভার বড়সড় ফ্রেম করা ছবি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন দু’জনে। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, "মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত সার্জিয়ো গোরকে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। আমি নিশ্চিত, তাঁর মেয়াদকালে ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ককে আরও মজবুত হবে।"
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে সার্জিয়ো গোর বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণের বৈঠক করেছেন।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই সার্জিয়ো হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে তরুণ রাষ্ট্রদূত। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই তিনি পরিচিত। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল অফিসের ডিরেক্টর ছিলেন, যেখানে নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের ৪ হাজারেরও বেশি পদের প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব তাঁর হাতে ছিল। সার্জিয়ো দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করবেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বেশ কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় রফতানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। যার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর চাপানো ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও। কেন্দ্র সরকার এই শুল্ককে শুরু থেকেই 'অন্যায্য', 'অযৌক্তিক' ও 'অগ্রহণযোগ্য' বলে দাবি করেছে।
এদিনের বৈঠকের পর সার্জিয়ো আরও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একজন 'মহান বন্ধু' বলেই মনে করেন। সম্প্রতি মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে একাধিক ফোনালাপের পর, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক ফলাফলের আশাও জোরালো হয়েছে।