প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন, ১৯৭৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু ২০১৬ সালে তথ্য জানার অধিকার আইন (আরটিআই) অনুসারে এক আবেদন জমা পড়ে, যেখানে ওই বছরের সব স্নাতকের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি প্রকাশ্যে আনার দাবি জানানো হয়।

নরেন্দ্র মোদী ও সাগরিকা ঘোষ
শেষ আপডেট: 25 August 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে (Delhi University) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) স্নাতক ডিগ্রি প্রকাশ্যে (Narendra Modi Degree) আনতে হবে না— সোমবার এমনই রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। মুখ্য তথ্য কমিশনারের নির্দেশ খারিজ করে বিচারপতি সচিন দত্তের একক বেঞ্চ স্পষ্ট (Single Bench) জানিয়ে দিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। আদালতের বিস্তারিত নির্দেশ পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ব্যাপারেই তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “দেড়শো কোটিরও বেশি মানুষের গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা একজন নেতার কলেজের ডিগ্রি কেন গোপন রাখা হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিগ্রি লুকিয়ে রেখে এই ‘নো ডেটা অ্যাভেইলেবল’ সরকার আসলে কী আড়াল করতে চাইছে?”
Why is the college degree of a prime minister in a democracy of 1.5 billion, top secret? By hiding @narendramodi ‘s degree what is the NO DATA AVAILABLE government trying to hide? #Modidegree
— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) August 25, 2025
ঘটনা হল, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন, ১৯৭৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু ২০১৬ সালে তথ্য জানার অধিকার আইন (আরটিআই) অনুসারে এক আবেদন জমা পড়ে, যেখানে ওই বছরের সব স্নাতকের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি প্রকাশ্যে আনার দাবি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময়ে এই আর্জি খারিজ করে জানায়, তৃতীয় পক্ষের কাছে তারা এমন তথ্য হস্তান্তর করবে না।
আরটিআই আইনের আওতায় তৈরি কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন অবশ্য ২০১৬ সালেই বিশ্ববিদ্যালয়কে নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। কমিশনের যুক্তি ছিল— প্রধানমন্ত্রীর মতো জনপ্রতিনিধির শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি জনসমক্ষে থাকা উচিত। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় হাইকোর্টে যায়।
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল আদালতে যুক্তি দেন, নথি প্রকাশ করলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হবে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে আদালতের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় সেই তথ্য জমা দিতে রাজি, তবে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য বাইরে প্রকাশ্যে আনা উচিত নয়।
অন্যদিকে, তথ্য অধিকার কর্মীরা পাল্টা যুক্তি দেন, আরটিআই আইনে আবেদনকারীর পরিচয় বা উদ্দেশ্য বিবেচনা করার কোনও জায়গা নেই। তাঁদের দাবি, শিক্ষাগত ডিগ্রি সরকারই প্রদান করে, তাই সেটি ব্যক্তিগত তথ্য বলে গণ্য হতে পারে না।
প্রায় এক দশক ধরে মামলা ও টানাপড়েনের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছিল। অবশেষে সোমবার জানিয়ে দেওয়া হল— দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডিগ্রি প্রকাশ করতে হবে না। তবে ইচ্ছা করলে আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন।