পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের অভিযোগ, মোদী এবারও স্বাধীনতা দিবসের ভাষণকে 'নতুন শত্রু' চিহ্নিত করার হাতিয়ার বানিয়েছেন। আন্দোলনজীবী থেকে শুরু করে এবার অনুপ্রবেশকারী - প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি শব্দ, বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

নরেন্দ্র মোদী এবং সাগরিকা ঘোষ
শেষ আপডেট: 15 August 2025 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) ভাষণে অনুপ্রবেশকারী (Infiltrators) ইস্যুতে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। তাঁর অভিযোগ, 'দেশের জনসংখ্যার গঠন বদলানোর চেষ্টা হচ্ছে'। আর এই ইস্যুতেই এবার নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের অভিযোগ, মোদী এবারও স্বাধীনতা দিবসের ভাষণকে 'নতুন শত্রু' চিহ্নিত করার হাতিয়ার বানিয়েছেন। আন্দোলনজীবী থেকে শুরু করে এবার অনুপ্রবেশকারী - প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি শব্দ, বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose) সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “মোদী কি কখনও ১৫ অগস্ট নিজের ১১ বছরের কাজকর্মের হিসেব দেন? অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম ফলাফল - এটাই তাঁর আসল রেকর্ড।'' তাঁর অভিযোগ, নতুন নতুন মিশনের ঘোষণা করে আগের সরকারগুলিকে দোষারোপ করাই প্রধানমন্ত্রীর অভ্যাস।
As usual @narendramodi uses his #IndependenceDay speech to target a new “enemy.” After Andolanjeevis etc now “infiltrators” is the new target. Again new “missions” announced while targeting past governments. When will Modi give a #15August address truthfully addressing his own…
— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) August 15, 2025
প্রধানমন্ত্রী এদিন অভিযোগের সুরে বলেছেন, “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে দেশের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে দেওয়া হচ্ছে। যুবসমাজের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আমাদের বোন-মেয়েদের টার্গেট করা হচ্ছে, জনজাতিদের বিভ্রান্ত করে তাদের জমি দখল করা হচ্ছে - এসব সহ্য করা হবে না।'' তাঁর দাবি, সীমান্ত অঞ্চলে এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, যা ভবিষ্যতে সংঘর্ষের বীজ বপন করছে। তাই “উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডেমোগ্রাফি মিশন” চালুর ঘোষণা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বেআইনি অভিবাসনের সমস্যা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন শহরে সন্দেহভাজন শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই করে বিশেষত বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এদিনের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ইঙ্গিত দেন সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল অভিযোগ করে আসছে যে, বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয়দেরও বেআইনি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।