পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করেছিল। যার জেরেই এই খুন।

আশা ও তাঁর প্রেমিক
শেষ আপডেট: 30 June 2025 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিভ-ইন সম্পর্ক। চার মাস আগেই একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রেম ক্রমেই বিষিয়ে উঠেছিল। আর সেই টানাপোড়েনেরই ৪০ বছরের এক মহিলার গলা টিপে খুন করলেন যুবক। প্রমাণ লোপাট করতে তাঁর দেহ ফেলে দেন আবর্জনার ট্রাকে। ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৩ বছরের শামসুদ্দিন, গ্রেফতার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।
রবিবার রাত ২টো নাগাদ দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর কোরামঙ্গলার এসটি বেড লে-আউট এলাকায় এক আবর্জনা ট্রাকে মৃতদেহটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। দেহের গলায় দড়ি ছিল, তা দিয়েই বাঁধা ছিল পা। তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দক্ষিণ বিভাগের ডিসিপি লোকেশ জে জগলসর জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মৃতার নাম আশা। দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর হুলিমাভুর বাসিন্দা ছিলেন। জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে ওই এলাকায় একটি হাউসকিপিং সামগ্রীর সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে আলাপ হয় শামসুদ্দিনের সঙ্গে। সেখান থেকেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চার মাস আগে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলেই পরিচয় দিতেন। যদিও আসলে শামসুদ্দিন অসমের বাসিন্দা, বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি তাঁদের সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করেছিল। নেশা করার অভ্যাস ও মাঝরাতে অন্য কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলা নিয়ে প্রায়শই অশান্তি হত বলে অভিযোগ। ঘটনার রাতে শামসুদ্দিন নেশা করেই বাড়ি ফেরেন। দু’জনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। সেই সময় রাগের মাথায় শামসুদ্দিন আশার গলা টিপে হত্যা করেন।
রাতেই দেহটি একটি বস্তায় ভরে নিজের বাইকে করে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যান শামসুদ্দিন। সেখানে একটি কর্পোরেশনের আবর্জনার গাড়ির পেছনে দেহটি ফেলে পালিয়ে যান।
প্রথমে মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। অনুমান করা হয়েছিল বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে। প্রাইভেট কোম্পানির টি-শার্ট ও প্যান্ট পরা অবস্থায় উদ্ধার হয় দেহ, কিন্তু অন্তর্বাস ছিল না। প্রাথমিকভাবে যৌন নিগ্রহের সন্দেহও করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। আশার ঘর ও আশপাশের রাস্তায় যে বাইক দেখা গিয়েছিল, তার সূত্র ধরেই চিহ্নিত করা হয় অভিযুক্ত শামসুদ্দিনকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।