বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে— সময়ের অপচয় না করে অবিলম্বে মা ও সন্তানকে খুঁজে বার করতে হবে এবং শিশুকে বাবার হেফাজতে ফেরত দিতে হবে।

সন্তানের খোঁজে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন চন্দননগরের সৈকত, ভিক্টোরিয়া কোথায়, এখনও খোঁজ নেই।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দননগরের (Chandannagar Case) বাসিন্দা সৈকত বসুর পাঁচ বছরের ছেলে ৭ জুলাই থেকে নিখোঁজ। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে ছেলে তিন দিনের জন্য হেফাজতে পেয়েছিলেন তাঁর রাশিয়ান মা (Russian Mother) ভিক্টোরিয়া। এরপর থেকেই মা-ছেলের আর কোনও খোঁজ নেই। অবশেষে সন্তানের খোঁজে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন সৈকত। শীর্ষ আদালত দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, এবং কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে বলেছে, যেখান থেকে হোক তাঁদের খুঁজে আনতে হবে।
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে— সময়ের অপচয় না করে অবিলম্বে মা ও সন্তানকে খুঁজে বার করতে হবে এবং শিশুকে বাবার হেফাজতে ফেরত দিতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের বাইরে যেন রাশিয়ান মহিলা পালাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে নজরদারির নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
সৈকত বসুর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ভিক্টোরিয়াকে শেষ দেখা গিয়েছিল ৪ জুলাই, দিল্লির রাশিয়ান দূতাবাসে। যেখানে তিনি নাকি একটি পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকছিলেন। দূতাবাসের এক কূটনীতিকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ দিল্লি পুলিশ কমিশনার ও ডিফেন্স কলোনি থানাকে শিশু উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও বিদেশ মন্ত্রককে লুকআউট নোটিস জারি করতে হবে। রাশিয়ান মহিলার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করতে হবে। রাশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলবে বিদেশ মন্ত্রক, এবং মহিলার সঙ্গে শেষ দেখা যাওয়া কূটনীতিকের বাসভবনে তল্লাশির অনুমতি চাওয়া হবে।
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিক্টোরিয়ার আইনজীবী। তবে মা-ছেলের অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা কিছু স্পষ্ট বলেননি।
ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সৈকত ও তাঁর মা। সৈকতের বক্তব্য, “ছেলের বয়স মাত্র চার বছর আট মাস। অথচ ও এমন কথা বলছিল, যা শুনে আমি আঁতকে উঠি— ও বলত, জানলা থেকে ঝাঁপ দিতে মন চায়। নিজেকে আঘাত করত। আদালতের হস্তক্ষেপে আমি এখন আশাবাদী।”