ভারী তুষারপাতের জেরে মানালিতে ভয়াবহ যানজট। খাবার, জল ও বাথরুম নেই, হোটেলেও নেই জায়গা। তীব্র ঠান্ডায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি আটকে ট্র্যাফিকে। রাতে গাড়িতেই ঘুম।

বরফের চাদরে ঢাকা মানালি
শেষ আপডেট: 26 January 2026 08:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাদা বরফে ঢাকা পাহাড় আর গাছের ছবির মতো দৃশ্য—সবই আছে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যই এই মুহূর্তে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানালিতে (Manali)। চলতি সপ্তাহে ভারী তুষারপাতের (Heavy Snowfall) পর এক লম্বা যানজট থমকে দিয়েছে জনপ্রিয় এই পর্যটন শহরের স্বাভাবিক ছন্দ। মানালিতে ঢোকার মুখে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার গাড়ির লাইন। অনেক পর্যটক ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাস্তায় আটকে রয়েছেন।
দীর্ঘ শুকনো আবহাওয়ার পর হিমাচল প্রদেশে (Himachal Pradesh) হঠাৎ ভারী তুষারপাত গোটা রাজ্যকে কার্যত ‘উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ডে’ পরিণত করেছে। তাপমাত্রা নামতেই পর্যটন শিল্পে আশার আলো দেখেছিল স্থানীয়রা। কিন্তু এই তুষারপাত দীর্ঘ ছুটির (Long Weekend) সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পর্যটকের ঢল নেমেছে পাহাড়ে। সেই ঢল সামাল দিতে না পেরেই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে মানালি।
দিল্লি (Delhi), গুরগাঁও (Gurugram) এবং চণ্ডীগড় (Chandigarh) থেকে বহু মানুষ বরফ দেখতে গাড়ি নিয়ে পাহাড়ে উঠেছিলেন। হঠাৎ এতলোক একসঙ্গে পাহাড়ে পৌঁছনোয় হয়েছে বিপত্তি। একদিকে বরফে স্লো ট্র্যাফিক অন্যদিকে তীব্র যানজট, সবমিলিয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। কিছু মানুষ গাড়িতেই ২৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে। না বেরতে পারছেন, না ফিরতে। আশপাশের হোটেলগুলিও ভর্তি। ফলে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে শত শত পর্যটক রাস্তাতেই রাত কাটালেন।

কয়েকজন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানালেন, কেউ উদ্ধার করতে আসেনি। প্রশাসন দেখছেই না কী চলছে। এনিয়ে এক পর্যটকের বক্তব্য, 'আমি পরিবার নিয়ে এসেছিলাম। বাচ্চা আছে সঙ্গে। গাড়িতেই রাত কাটালাম। না খাবার আছে, না জল। বাথরুমের জায়গা পর্যন্ত নেই। শরীর খারাপ লাগছে আমাদের খুব।' আরেকজন জানান, তাঁদের উদ্ধার করুক প্রশাসন, নাহলে খুবই বিপদ সামনে। খিদেয় শরীর আর চলছে না।
“বিস্কুট আর চিপস ছাড়া কিছুই খেতে পারিনি। শুধু জল খেয়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি গাড়িতে বসে আছি। রাতে ঘুম হয়নি, সকালে খাবারও উপায় ছিল না,” বলতে বলতে অস্বস্তি প্রকাশ করলেন আরেকজন। অনেকে আবার লাগেজ কাঁধে নিয়ে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটে মানালি শহরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শুধু মানালিতে ঢোকার পথ নয়, বেরোনোর রাস্তাতেও একই ছবি। মানালি ও পাতলিকুহল (Patlikuhl) এলাকার মধ্যে ভয়াবহ যানজটে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক।

পুলিশ ও প্রশাসন জানাচ্ছে, বহু জায়গায় রাস্তার উপর প্রায় দু’ফুট পর্যন্ত বরফ জমে রয়েছে। এর জেরে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ। মানালির দিকে যাওয়া জাতীয় সড়কের প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি অবরুদ্ধ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে বহু পর্যটককে গাড়ি ফেলে বাধ্য হয়ে বরফের মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একদিকে যখন মানালির এমন পরিস্থিতি, অন্যদিকে গোটা রাজ্যই খুব একটা ভাল নেই। পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। হিমাচল প্রদেশে মোট ৮৩৫টি রাস্তা এখনও বন্ধ। আবহাওয়া দফতর (Meteorological Department) জানিয়েছে, সোমবার থেকে নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার জেরে রাজ্যের উঁচু এলাকাগুলিতে ফের ভারী তুষারপাত হতে পারে। গোটা রাজ্যের জন্য জারি হলুদ সতর্কতা (Yellow Warning)।

মঙ্গলবারের জন্য কুল্লু (Kullu), কিন্নৌর (Kinnaur), ছাম্বা (Chamba) এবং লাহৌল-স্পিতি (Lahaul and Spiti) জেলায় কমলা সতর্কতা (Orange Alert) জারি করেছে মৌসম ভবন। বাকি ন’টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করে ঠান্ডা দিন, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সব অভিযোগ উড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।