ভারি তুষারপাতের জেরে মানালিতে ১৫ কিমি দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। শতাধিক পর্যটক আটকে বিভিন্ন এলাকায়। বরফে ঢেকে যাওয়ায় একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যাহত।

মানালির বর্তমান পরিস্থিতি
শেষ আপডেট: 25 January 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিম হিমালয় জুড়ে ভারী তুষারপাতের (snowfall) জেরে কার্যত বিপর্যস্ত উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যগুলি। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মানালি (Manali snowfall) ও আশপাশের এলাকায়। পিচ্ছিল রাস্তা আর প্রজাতন্ত্র দিবসের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামায় মানালির কাছে তৈরি হয়েছে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
হিমাচল প্রদেশ-এ তুষারপাত দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার অবসান ঘটালেও দৈনন্দিন জীবনকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে। মানালি ও সিমলা-সহ (Shimla) একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন কার্যত দাঁড়িয়ে ছিল। সূত্রের খবর, অন্তত ৬০০-র বেশি পর্যটক মানালির কাছে আটকে পড়েন। অনেকেই সারা রাত গাড়ির মধ্যেই কাটাতে বাধ্য হন।
দিল্লি থেকে আসা এক পর্যটক জানান, তিন ঘণ্টার বেশি সময় ট্রাফিকে আটকে থাকার পর তাঁরা প্রায় ৭ কিলোমিটার হেঁটে মানালিতে পৌঁছন। আর এক পর্যটকের কথায়, “রাত কাটাতে হয়েছে গাড়ির মধ্যেই। সঙ্গে আনা ম্যাগি আর ছোট সিলিন্ডারই ভরসা ছিল।”
VIDEO | Manali, Himachal Pradesh: Heavy snowfall blankets roads in Manali, leading to traffic congestion and disruption of daily life. Several roads remain blocked as residents and tourists face difficulties. The administration, along with the health department, has stepped in to… pic.twitter.com/SuX6BdxuVz
— Press Trust of India (@PTI_News) January 25, 2026
পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু বেসরকারি ট্যাক্সি চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পর্যটকদের দাবি, মানালি থেকে পাতলিকুহাল পর্যন্ত মাত্র ২০ কিলোমিটার যাত্রার জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।
রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর (SDMA) জানিয়েছে, হিমাচল জুড়ে ৬৮৩টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক NH-03 (কোকসর–দার্চা) ও NH-505 (গ্রামফু–বাতাল) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের মন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিংহ জানান, উঁচু পার্বত্য এলাকায় ২.৫ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত বরফ জমেছে। জেসিবি ও পোকলিন মেশিন দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে।
বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। প্রায় ৫,৭৭৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২৬টি জল সরবরাহ প্রকল্প। সিমলা জেলার বড় অংশে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ নেই। বহু গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা ফিরতে ৫–৬ দিন লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হিসেবে উঠে এসেছে লাহৌল-স্পিতি, মান্ডি, চাম্বা, কুল্লু ও সিরমৌর। কোকসর–রোটাং পাস, দার্চা–সারচু, গ্রামফু–বাতাল এবং অতল টানেল হয়ে মানালি–লাহৌল রুট বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দুর্যোগের মধ্যেও তুষারপাত দেখতে পর্যটকদের ভিড় কমেনি। সিমলায় হোটেল বুকিং ৭০–৮০ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে আশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। তবে দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাঁদের চিন্তা বাড়াচ্ছে।
উত্তরাখণ্ড ও কাশ্মীরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। উত্তরাখণ্ড-এ যমুনোত্রী হাইওয়েতে আটকে পড়া প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর কাশ্মীর-এ গুলমার্গ ও তাংমার্গ এলাকা থেকে ১,৬০০-র বেশি পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
আগামী ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি আরও বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস থাকায় রাজ্য প্রশাসন নতুন সতর্কতা জারি করেছে। জরুরি অপারেশন সেন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের।