২০০৯ সালের গোড়ায় ওই আন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে আসে মাওবাদীরা। লালগড়ের ধরমপুরের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহল 'দখল' করার কথা স্বীকারও করেন মাওবাদী নেতা কিষেণজি।

প্রয়াত মাওবাদী নেতা কিষেণজির স্ত্রী সুজাতা।
শেষ আপডেট: 13 September 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ চার দশকের সশস্ত্র লড়াই শেষে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেত্রী সুজাতা (Top woman maoist leader, Kishenji’s Wife Surrender)। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানার (Telangana) গাদওয়াল জেলায় তিন মহিলা সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন তিনি। সুজাতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।
সুজাতার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি মাওবাদী নেতা, প্রয়াত মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির স্ত্রী। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর ঝাড়গ্রামের জামবনীর বুড়িশোল জঙ্গলে যৌথবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান দাপুটে এই শীর্ষ মাও নেতা।
পুলিশ সূত্রের খবর, তেলেঙ্গানার গাদওয়ালের মেয়ে সুজাতার বিপ্লবে হাতেখড়ি হয়েছিল তুতো ভাই প্যাটেল সুধাকর রেড্ডির হাত ধরে। ২০০৯ সালে সুধাকরের মৃত্যু হলেও, সেই পথেই এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিশোরী বয়সেই বেছে নেন বিপ্লবের রাস্তা। পরে ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন কিষেণজিকে।
২০০৮ সালের ২ নভেম্বর শালবনিতে জিন্দলদের ইস্পাত প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠান সেরে সড়ক পথে মেদিনীপুরে ফেরার পথে ভাদুতলায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে মাওবাদীদের ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়েন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-সহ দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অল্পের জন্য রক্ষা পান তাঁরা। এর কয়েকদিন পরেই পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগে ওই বছরের ৮ নভেম্বর থেকে জঙ্গলমহলে গড়ে ওঠে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি। রাস্তা কেটে জঙ্গলমহল কার্যত অবরুদ্ধ করে শুরু হয় আন্দোলন। ২০০৯ সালের গোড়ায় ওই আন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে আসে মাওবাদীরা। সে সময় লালগড়ের ধরমপুরের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহল 'দখল' করার কথা স্বীকারও করেন মাওবাদী নেতা কিষেণজি।
সূত্রের খবর, এই সময় থেকেই দলে ক্রমশই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন কিষেণজির স্ত্রী সুজাতা। পরে যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কিষেণজির মৃত্যুর পর দলে তাঁর প্রভাব আরও বাড়ে। একে–৪৭ হাতে নানা রাজ্যে সক্রিয় ছিলেন সুজাতা। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ১০৬টি মামলা। গোয়েন্দারা বলছেন, তিনি মাওবাদী আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম মুখ। ফলে তাঁর ধরা পড়া মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা দেবে বলেই আশা।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়াই লক্ষ্য। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই ছত্তীসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং তেলেঙ্গানার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তীব্র গতিতে চলছে দমন অভিযান। বিশেষ করে ছত্তীসগড়–তেলেঙ্গানা সীমান্তের কারেগুট্টা পাহাড়ি অঞ্চলকে এখনও মাওবাদীদের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করছে গোয়েন্দারা।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সুজাতার আত্মসমর্পণ শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্য নয়, বরং প্রতীকী অর্থেও তা বড় তাৎপর্য বহন করছে।