রাজ্যস্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকাকে গুলি করে খুন করেন তাঁরই বাবা, দীপক যাদব। ঘটনার আগে, হোয়াটসঅ্যাপে নিজের কোচ অজয় যাদবকে একাধিক মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তিনি।

রাধিকা
শেষ আপডেট: 12 July 2025 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। জীবনের স্বাদ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় রাধিকা যাদবের কাছে।
রাজ্যস্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকাকে গুলি করে খুন করেন তাঁরই বাবা, দীপক যাদব। ঘটনার আগে, হোয়াটসঅ্যাপে নিজের কোচ অজয় যাদবকে একাধিক মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সেই মেসেজে ফুটে উঠেছে বাড়ির কড়া নিয়ম কানুনের ফাঁসে আটকে পড়া এক মেয়ের দমবন্ধ পরিস্থিতি, এবং তার থেকে মুক্তির আকুতি।
“অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর… যে কোনও দু’এক মাস, একটু বেরোতে চাই। একটু স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই।” এই ছিল রাধিকার কথা। তিনি জানিয়েছিলেন, বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। চিন নয়, বরং দুবাই কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গা পছন্দ তাঁর। কারণ সেখানে খাবারদাবার নিয়ে সমস্যা হবে না। মেসেজে লিখেছিলেন, “দুবাই-অস্ট্রেলিয়া ঠিক আছে। অস্ট্রেলিয়াতে আত্মীয় আছে, আর দুবাইতে আপনি (কোচ)।”
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে রাধিকা একাধিক বার লিখেছেন, “এখানে অনেক রেস্ট্রিকশন। স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই। ঘরের লোক ঠিক আছে, কিন্তু একটু নিজের মতো কিছুদিন থাকতে চাই।”
তাঁর এই স্বাধীনতার স্বপ্ন অবশ্য পরিবারের সঙ্গে মিলছিল না। “পাপার সঙ্গে কথা বললাম, কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না। শুনে বললেন কোনও লাভ নেই। যা খরচ হবে, কিছুই বাঁচবে না।” এমনই লেখা রাধিকার একটি মেসেজে। উত্তরে কোচের পাঠানো ভয়েস নোট শুনে রাধিকা শুধু বলেছিলেন, “বুঝতে পারছি।”
রাধিকা ও তাঁর বাবার মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। পুলিশ জানিয়েছে, দীপক যাদব মানসিকভাবে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপে ছিলেন, কারণ প্রতিবেশীরা তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ করতেন— মেয়ের উপার্জনের উপর নির্ভর করছেন বলে।
হরিয়ানার গুরুগ্রামের সুশান্ত লোকের সেক্টর ৫৭-এর বাড়িতেই, বৃহস্পতিবার একেবারে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে মেয়েকে গুলি করেন দীপক। শনিবার আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, দীপক নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।
আর এক কোচ, অঙ্কিত প্যাটেল এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বাবা-মেয়ের সম্পর্কে তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা আগে লক্ষ্য করিনি।”