মামলার সূত্রপাত ১৯৮২ সালের ৯ অগস্ট, হামিরপুর জেলায় একটি জমি বিবাদ (land dispute) ঘিরে গুনবা (Gunwa) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরকারি আইনজীবীর দাবি ছিল, মূল অভিযুক্ত মাইকু (Maiku) গুলি চালায় এবং ধানিরাম ও সত্তিদিন (Sattidin) হামলায় প্ররোচনা দেয়।

অভিযুক্ত ধানিরাম ১৯৮৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হলেও, সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা তাঁর আপিল এলাহাবাদ হাইকোর্টে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার বাস্তবতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব তুলে ধরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court) ১৯৮২ সালের একটি হত্যা মামলায় ১০০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধকে বেকসুর মুক্তি দিয়েছে। বিচারপতিরা এই মামলায় অভিযুক্তকে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে (benefit of doubt) দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, চার দশকের বেশি সময় ধরে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়াটা একটি ব্যতিক্রমী ও দুঃখজনক পরিস্থিতি।
বিচারপতি চন্দ্রধারী সিং (Chandradhaari Singh) এবং বিচারপতি সঞ্জীব কুমার (Sanjeev Kumar)-এর ডিভিশন বেঞ্চ হামিরপুরের (Hamirpur) নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা বাতিল করে দেয়। অভিযুক্ত ধানিরাম (Dhaniram) ১৯৮৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হলেও, সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা তাঁর আপিল এলাহাবাদ হাইকোর্টে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল।
মামলার সূত্রপাত ১৯৮২ সালের ৯ অগস্ট, হামিরপুর জেলায় একটি জমি বিবাদ (land dispute) ঘিরে গুনবা (Gunwa) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরকারি আইনজীবীর দাবি ছিল, মূল অভিযুক্ত মাইকু (Maiku) গুলি চালায় এবং ধানিরাম ও সত্তিদিন (Sattidin) হামলায় প্ররোচনা দেয়। বিচারাধীন আদালত ধানিরাম ও সত্তিদিনকে খুনের অপরাধে (murder with common intention) অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।
দু’জনেই হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেন এবং মামলা চলাকালীন জামিনে মুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এর মধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত সত্তিদিনের মৃত্যু হয়। ফলে ধানিরামই হয়ে ওঠেন একমাত্র জীবিত অভিযুক্ত। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, মূল অভিযুক্ত মাইকুকে কোনওদিন গ্রেফতারই করা যায়নি— এটি মামলার একটি বড় গাফিলতি। বেঞ্চ আরও জানায়, অভিযুক্তের অত্যন্ত বেশি বয়স এবং চার দশকের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা উপেক্ষা করা যায় না। সরকারি আইনজীবীর সাক্ষ্য ও প্রমাণেও একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে আদালত মন্তব্য করে। এই সব দিক বিচার করে ধানিরামকে সন্দেহের সুবিধা দিয়ে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয় এবং তাঁর জামিন বন্ড (bail bonds) বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই রায় আবারও ভারতের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার (criminal justice system) দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ও নিহতের পরিবার— উভয়ের জীবনেই যে গভীর মানসিক ও সামাজিক প্রভাব পড়ে, এই রায় সেই বাস্তবতার মানবিক দিকটি নতুন করে সামনে আনল।