বৃহস্পতিবারও দিনের শুরুতেই প্রবল চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রথম দফার মতো লোকসভা মুলতুবি হয়ে যায়। লোকসভার আঁচ এদিন গিয়ে পড়ে রাজ্যসভাতেও।

প্রধানমন্ত্রী ভাষণ না দিয়েই চলে যান। তা নিয়ে কংগ্রেসের দলনেতা রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদীকে ভয় পেয়েছেন বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 11:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদের বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধীদের হইহট্টগোলে পণ্ড হয়ে যাচ্ছে সংসদীয় কাজ। বৃহস্পতিবারও দিনের শুরুতেই প্রবল চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রথম দফার মতো লোকসভা মুলতুবি হয়ে যায়। লোকসভার আঁচ এদিন গিয়ে পড়ে রাজ্যসভাতেও। এদিন সভা শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কাজকর্মের (Parliament business) বিষয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা। চলতি বাজেট অধিবেশনে (Budget Session) লোকসভা (Lok Sabha) ও রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) টানা অচলাবস্থার আবহেই এই বৈঠক হয়।
এরই মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) বিরোধী সাংসদদের সংসদীয় মর্যাদা ও শালীনতা (decorum) বজায় রাখার অনুরোধ জানান। তার আগের দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব (Motion of Thanks on the President’s Address) বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার ঠিক আগে হইচইয়ের মধ্যে সংসদের কার্যক্রম মুলতুবি হয়ে যায়। ফলে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ না দিয়েই চলে যান। তা নিয়ে কংগ্রেসের দলনেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী নরেন্দ্র মোদীকে ভয় পেয়েছেন বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি।
বাজেট অধিবেশনে আট জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড (suspension of Opposition MPs) করার প্রতিবাদে কংগ্রেস সাংসদরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন। পাশাপাশি মহিলা বিরোধী সাংসদরা ট্রেজারি বেঞ্চের (treasury benches) আসন আটকে দেন, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) আসনও অবরুদ্ধ করা হয়। ওই সময় সংসদে ‘Do what is right’ লেখা একটি বড় ব্যানারও টাঙানো হয়। হট্টগোলের মধ্যেই বিজেপি সাংসদ সন্ধ্যা রাই (Sandhya Rai), যিনি সেদিন কার্যনির্বাহী স্পিকারের (acting Speaker) দায়িত্বে ছিলেন, সংসদের কার্যক্রম মুলতুবি ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, এদিন সকালে রাজ্যসভায় লোকসভার ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয় খাড়্গে ও বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জেপি নাড্ডার (JP Nadda) মধ্যে। রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাড়্গে বলেন, সংসদ মানে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলেই। দেশের স্বার্থে লোকসভার বিরোধী দলনেতা কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এভাবে সংসদ চালানো যায় কি না, প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাল্টা নাড্ডা বলেন, লোকসভার কার্যাবলি রাজ্যসভায় আলোচনার বিষয় হতে পারে না— এই নিয়ম বিরোধী দলনেতার জানা উচিত।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) সব সাংসদকে সংসদের নিয়ম ও ঐতিহ্য (rules and traditions) মানার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দলের সাংসদই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে কংগ্রেসের দিকে কটাক্ষ করে রিজিজু বলেন, যেখানে বেশিরভাগ সাংসদ শুনতে আগ্রহী, সেখানে কংগ্রেস যেন অনিচ্ছুক। লোকসভার বিরোধী দলনেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের নিয়ম মানা হচ্ছে না এবং শালীনতা ও সংসদীয় প্রক্রিয়া (parliamentary procedure) বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।