দুর্ঘটনার পর গ্যাস লিক শুরু হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সম্পূর্ণ মুম্বইমুখী লেন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

শেষ আপডেট: 5 February 2026 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের ৯৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই–পুনে এক্সপ্রেসওয়ে (Mumbai Pune Expressway) বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে ছিল। আদোশি টানেলের কাছে প্রোপিলিন গ্যাসভর্তি একটি ট্যাঙ্কার উল্টে (Gas tanker overturned) যাওয়ার পর প্রায় ৩৩ ঘণ্টা ধরে তৈরি হয় নজিরবিহীন যানজট (Mumbai Pune Expressway traffic gridlock)। ফলে হাজার হাজার যাত্রীচরম অসুবিধার মুখে পড়েন (Maharashtra highway disaster)। জল, খাবার, এমনকী শৌচাগার ছাড়াই গাড়ির ভিতর আটকে থাকতে বাধ্য হন।
জানা গিয়েছে, কোচি থেকে সুরাত যাচ্ছিল ট্যাঙ্কারটি। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ মুম্বইমুখী লেনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে যায়। ট্যাঙ্কারটিতে ২১ টন 'উচ্চমাত্রায় দাহ্য' প্রোপিলিন গ্যাস ছিল। দুর্ঘটনার পর গ্যাস লিক শুরু হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সম্পূর্ণ মুম্বইমুখী লেন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকায় এবং ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজেও দেরি হয়। দমকল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের বিশেষ রাসায়নিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে গ্যাসের চাপ ৮ psig থেকে ২ psig-এ নামার অপেক্ষা করতে হয়। আগুন লাগা ঠেকাতে দমকল ক্রমাগত জল ছিটিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে ৫০০ মিটার এলাকা ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ ঘোষণা করা হয়।
রাত গভীর হলে অন্য ট্যাঙ্কারে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয় এবং উল্টে থাকা ট্যাঙ্কার সরানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়।
এই ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়ের দুই দিকেই দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পুনেমুখী যানবাহন খালাপুর টোল প্লাজা পর্যন্ত আটকে থাকে, আর মুম্বইমুখী লেনে ১০-১২ কিলোমিটার লম্বা সারি দেখা যায়।
অসহায় অবস্থায় পড়েন বহু যাত্রী। কেউ জল বাঁচিয়ে রেখে খাচ্ছেন, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি থেকে বেরতে পারেননি। ছোট শিশু, প্রবীণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। কেউ ডায়াপার ফুরিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, কেউ আবার অসুস্থ শরীরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার যন্ত্রণা।
নাসিক থেকে মুম্বই যাচ্ছিলেন এক প্রবীণ দম্পতি - তাঁদের শেষমেশ তামহিনি ঘাট ঘুরে যেতে হয়। পুনের এক ব্যবসায়ী আট ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকার পর হেলিকপ্টারে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছন। তিনি সোশাল মিডিয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে এক্সিট পরিকল্পনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীস তদন্তের নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুপারিশ-সহ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এমএসআরডিসি-কে।
খোপোলি থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতিতে ও রাস্তার পরিস্থিতি বিবেচনা না করে গাড়ি চালানোর ফলেই দুর্ঘটনা। চালক রতন সিং আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
যাত্রীদের তামহিনি ঘাট, কারজাত, মালশেজ ঘাট, আলে ফাটার মতো বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলেও সেখানেও চাপ তৈরি হয়।