সোমনাথ বাবু নিষেধ করার পরেও সংসদ ভবন চত্বরে বা সেন্ট্রাল হলে বহু সাংসদ ও সাংবাদিকরা এখনও সিগারেট খান। তা নিয়ে অবশ্য খুব কড়াকড়ি করা হয় না।

লোকসভায় সিগারেট খাচ্ছেন কীর্তি আজাদ, ভিডিও ফাঁস বিজেপি-র।
শেষ আপডেট: 17 December 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদ তথা লোকসভার অধিবেশন কক্ষে বসে তৃণমূলের এক সাংসদ (TMC MP) প্রায়ই ই-সিগারেট (e cigarette) খান তথা ভেপিং করেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur)।
দ্য ওয়ালে সেদিনই লেখা হয়েছিল, যাঁর বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ সেই তিনি হলেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। বুধবার কীর্তির সেই কুকীর্তির ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করে দিল বিজেপি। দ্য ওয়াল অবশ্য সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
The TMC MP accused by BJP MP Anurag Thakur of vaping inside Parliament is none other than Kirti Azad. For people like him, rules and laws clearly hold no meaning. Just imagine the audacity, hiding an e-cigarette in his palm while in the House!
Smoking may not be illegal, but… pic.twitter.com/kZGnYcP0Iu— Amit Malviya (@amitmalviya) December 17, 2025
সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকার পদে থাকার সময় থেকেই সংসদ ভবনের মধ্যে সিগারেট খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। নইলে তার আগে সংসদ ভবনের মধ্যে চোরাগোপ্তা সিগারেট খাওয়া চলত। সোমনাথ বাবু নিষেধ করার পরেও সংসদ ভবন চত্বরে বা সেন্ট্রাল হলে বহু সাংসদ ও সাংবাদিকরা এখনও সিগারেট খান। তা নিয়ে অবশ্য খুব কড়াকড়ি করা হয় না।
কিন্তু লোকসভা বা রাজ্যসভার অধিবেশন কক্ষে বসে কেউ যদি নেশার দ্রব্য গ্রহণ করেন বা ই-সিগারেট খান, অর্থাৎ ভেপিং করেন, তা সংসদীয় শিষ্ঠাচারের পরিপন্থী তো বটেই। বিষয়টা দেখতেও খুবই বিসদৃশ।
ঠিক এই অভিযোগটাই স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জানিয়েছেন অনুরাগ। এ ব্যাপারে বিজেপির মুখাপাত্র অমিত মালব্য বুধবার এক্স-এ করা এক পোস্টে দাবি করেছেন, সংসদের ভিতরে ভেপ করতে দেখা যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ওই সাংসদ আর কেউ নন, তিনি কীর্তি আজাদ।
অমিত মালব্য তাঁর পোস্টে লেখেন, “বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর যে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে সংসদের ভিতরে ভেপ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন, তিনি কীর্তি আজাদ।” মালব্যর দাবি, সংসদের মতো সংবেদনশীল জায়গায় নিয়ম-কানুনকে তোয়াক্কা না করে ই-সিগারেট লুকিয়ে ভেপ করা “চরম দুঃসাহসের” পরিচয়।
তাঁর বক্তব্য, ধূমপান আইনত সব জায়গায় নিষিদ্ধ না হলেও সংসদের ভিতরে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছেন অমিত মালব্য। তাঁর প্রশ্ন, তৃণমূলের এক সাংসদের এমন আচরণ নিয়ে দলের অবস্থান কী?
ঘটনাকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে সংসদের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ই-সিগারেট ভেতরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হল। কেউ কেউ একে “গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি” বলে উল্লেখ করেছেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সংসদের অভ্যন্তরের ভিডিও বা ফুটেজ বাইরে এল কীভাবে—এটিও কি নিরাপত্তা লঙ্ঘন নয়?
২০১৯ সালে প্রণীত ইলেকট্রনিক সিগারেট নিষেধাজ্ঞা আইন অনুযায়ী ভারতে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইনে ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও প্রচার— সবই বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবু বাস্তবে ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কিছু খুচরো বাজারে এখনও ই-সিগারেটের দেখা মেলে। ফলে জনস্বাস্থ্য, আইন প্রয়োগ ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা—বিশেষ করে লোকসভায় বসে ভেপিং করার ঘটনা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা কীর্তি আজাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।