মৃত্যুর আগে তরুণী তাঁর বাবার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে সাতটি অডিও বার্তা পাঠান। জানান সবটা।

রিধন্যা ও তাঁর স্বামী
শেষ আপডেট: 30 June 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পণের দাবিতে লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ, আত্মঘাতী হলেন তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার তরুণী। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কাবিন কুমারের (২৮) সঙ্গে। বিয়েতে পণের অঙ্ক ছিল চোখ কপালে ওঠার মতো। ২৭ বছরের রিধন্যার বাড়ি থেকে দেওয়া হয়েছিল ১০০ ভরি (প্রায় ৮০০ গ্রাম) সোনা ও ৭০ লক্ষ টাকার ভলভো গাড়ি। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, রিধন্যা তিরুপ্পুরের বিখ্যাত গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আন্নাদুরাইয়ের মেয়ে। রবিবার সকালে তিনি বলেন, মন্দিরে যাচ্ছেন। মন্দিপালায়মের পথে গাড়ি থামিয়ে সেখানেই কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে আত্মঘাতী হন। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে রিধন্যার নিথর দেহ উদ্ধার করে। মুখে ফেনা দেখে আত্মহত্যার বিষয়টি অনুমান করে পুলিশ।
মৃত্যুর আগে তরুণী তাঁর বাবার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে সাতটি অডিও বার্তা পাঠান। বলেন, 'এই বিয়ে একটা চক্রান্ত। কাবিন ও তাঁর পরিবার পরিকল্পনা করেই আমাকে বিয়ে করেছিল। প্রতিদিন সহ্য করতে হচ্ছে মানসিক নির্যাতন। কাউকে বলতেও পারি না। যারা শুনছেন, তাঁরা বলছেন বিবাহিত জীবনে এসব চলেই, অথচ কেউ বোঝেন না আমার যন্ত্রণা।'
আরও একটি বার্তায় রিধন্যা বলেন, 'এই জীবনে আর থাকতে পারছি না। আমি তোমাদের উপর বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমার কোনও ভুল নেই। আমাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করছে ওরা, আর কাবিন মারধর করছে।' তিনি আরও বলেন, 'তোমরা, তুমি আর মা, আমার পৃথিবী। শেষ নিঃশ্বাস অবধি তোমরাই ছিলে আমার আশ্রয়। কিন্তু আমি তোমাদের কষ্ট দিয়েছি। ক্ষমা করে দিও বাবা। সব শেষ। আমি চলে যাচ্ছি।'
রিধন্যার দেহ তিরুপ্পুর জেলা সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়ে আত্মীয়স্বজনরা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। ইতিমধ্যেই রিধন্যার স্বামী কাবিন কুমার, শ্বশুর ঈশ্বরমূর্তি ও শাশুড়ি চিত্রাদেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘ডাওরি প্রোহিবিশন অ্যাক্ট’-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে।