অভিযোগ ছিল, তিরুপতির লাড্ডুতে যে ঘি ব্যবহার করা হয়েছে তা ভেজাল। তাতে গরুর চর্বি (beef tallow) বা শূকরের চর্বি (lard) রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যবহৃত ঘি-তে পশুচর্বির উপস্থিতির অভিযোগ নিয়ে হই চই পড়ে গেছিল গোটা দক্ষিণ ভারতে।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 30 January 2026 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিরুপতি লাড্ডু (Tirupati Laddu) বিতর্ক নতুন মোড় নিল। অভিযোগ ছিল, তিরুপতির লাড্ডুতে যে ঘি ব্যবহার করা হয়েছে তা ভেজাল। তাতে গরুর চর্বি (beef tallow) বা শূকরের চর্বি (lard) রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যবহৃত ঘি-তে পশুচর্বির উপস্থিতির অভিযোগ নিয়ে হই চই পড়ে গেছিল গোটা দক্ষিণ ভারতে। তিরুপতি বালাজির ভক্তকুল শুধু দক্ষিণের রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এই দেবস্থানের দেবতা অতিশয় জাগ্রত বলে বিশ্বাস বহু কোটি মানুষের। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রতি বছর তিরুপতি দর্শনে যান। এহেন পরিস্থিতিতে তিরুপতির ভেজাল ঘি নিয়ে সিবিআই (CBI) তদন্তের ব্যাপারে অনেকেরই আগ্রহ ছিল।
বহু প্রতীক্ষিত সেই তদন্ত রিপোর্টে সিবিআই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তিরুপতির লাড্ডু প্রসাদ তৈরিতে গোমাংসের চর্বি (beef tallow) বা শূকরের চর্বি (lard) ব্যবহারের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যবহৃত ঘি-তে পশুচর্বির উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলেই চূড়ান্ত চার্জশিটে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
CBI-র এই চার্জশিট জমা পড়েছে ২৩ জানুয়ারি, নেল্লোরের অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো আদালতে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ও তাঁর উপ-মুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, তিরুপতির লাড্ডুতে ‘অ্যানিম্যাল ফ্যাট’ মেশানো হয়েছে। সেই অভিযোগ ঘিরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক।
তাহলে কী মেশানো হয়েছিল তিরুপতির ঘিতে?
CBI জানিয়েছে, লাড্ডু তৈরির ঘি-তে পশুচর্বি নয়, বরং উদ্ভিজ্জ তেল ও কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল। এই উপাদানগুলি পরীক্ষাগারে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে ঘি-এর স্বাভাবিক রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নকল করা যায়। তদন্তে উঠে এসেছে—পাম অয়েল, পাম কার্নেল অয়েল ও পামোলিনের সঙ্গে বিশেষ অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার মিশিয়ে ঘি-এর Reichert-Meissl (RM) ভ্যালু কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছিল, যাতে পরীক্ষায় খাঁটি ঘি বলে ধরা পড়ে।
কারা জড়িত?
চার্জশিটে মোট ৩৬ জনের নাম রয়েছে। মূল অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের (TTD) প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার (প্রোকিউরমেন্ট) আরএসএসভিআর সুব্রহ্মণ্যম। অভিযোগ, ব্ল্যাক লিস্টেড সংস্থার কাছ থেকেও তিনি ঘি কেনার অনুমোদন দিয়েছিলেন।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ডের ‘ভোলেবাবা অর্গানিক ডেয়ারি’ নামের একটি সংস্থা কার্যত দুধ বা মাখন উৎপাদন না করেই বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম ঘি সরবরাহ করেছিল। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সিবিআই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই আক্রমণাত্মক হয়েছে বিরোধীরা। ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি দাবি করেছে, এই ঘটনায় চন্দ্রবাবু নাইডু ও পবন কল্যাণের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁদের বক্তব্য, তিরুমালা কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ নয়—এটি কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্র। সব মিলিয়ে, তিরুপতি লাড্ডু বিতর্কে পশুচর্বির অভিযোগ খারিজ হলেও, কৃত্রিম ঘি ও ভেজাল সরবরাহের বিষয়টি নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল—ধর্মীয় প্রসাদ তৈরিতে নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিয়ে।