পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, তিন পুরুষ পর্যটককে খালে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন সাঁতরে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। কিন্তু ওড়িশার এক পর্যটক স্রোতে ভেসে যান এবং পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। একই সময়ে দুই মহিলাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।

দোষী সাব্যস্ত তিন যুবক
শেষ আপডেট: 16 February 2026 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের কোপ্পাল জেলায় (Karnataka Koppal) বহুচর্চিত গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তিন দোষীকে মৃত্যুদণ্ড দিল নিম্ন আদালত। গত বছরের মার্চে হাম্পির (Hampi Incident) কাছে সংঘটিত এই নৃশংস অপরাধ দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তুলেছিল। সোমবার রায় ঘোষণা করে আদালত জানায়, অপরাধের প্রকৃতি ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার’ - অর্থাৎ বিরলতমের মধ্যে বিরল শ্রেণিতে পড়ে, তাই সর্বোচ্চ সাজাই (Capital Punishment) প্রযোজ্য।
দোষীদের নাম মল্লেশ ওরফে হান্ডিমল্লা, সাই এবং শরণাপ্পা। বিচারপর্বে তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। রায় ঘোষণা করে আদালত স্পষ্ট জানায়, এই অপরাধ সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ৬ মার্চ ২০২৫ সালের রাতে। হাম্পির কাছেই সানাপুর এলাকায় তুঙ্গাভদ্র লেফট ব্যাঙ্ক কানালের ধারে পাঁচ পর্যটক বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন দুই মহিলা - একজন ইজরায়েলি নাগরিক এবং অন্যজন স্থানীয় হোমস্টে পরিচালনাকারী। অভিযোগ, ওই তিন দুষ্কৃতী তাঁদের কাছে এসে টাকা দাবি করে। দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, তিন পুরুষ পর্যটককে খালে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন সাঁতরে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। কিন্তু ওড়িশার এক পর্যটক স্রোতে ভেসে যান এবং পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। একই সময়ে দুই মহিলাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরপরই রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিত হাম্পিতে এমন বর্বরোচিত অপরাধ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ফরেনসিক প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে চার্জশিট পেশ করা হয়।
বিচার চলাকালীন দাবি ওঠে, এটি পূর্বপরিকল্পিত লুট ও হিংসার ঘটনা, যার পরিণতি ভয়াবহ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিরস্ত্র পর্যটকদের উপর এমন আক্রমণ শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ।
রায়ে বিচারক বলেন, নৃশংসতা, অসহায় অবস্থায় নারীদের উপর যৌন নির্যাতন এবং এক ব্যক্তির মৃত্যু - সব মিলিয়ে এটি এমন এক অপরাধ, যা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। সেই কারণেই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই রায় পর্যটননির্ভর রাজ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দেবে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা। পাশাপাশি নারী ও বিদেশি পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দায়বদ্ধতার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এল।