বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি দাবি করেন, 'রাজ্যে কোনও অপরাধ চক্র নেই। বিহারে এখন সুশাসন চলছে।'

বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 13 July 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত বিহার। রাজ্যের তিনটি জেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর তিনটি খুন। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, এক পশুচিকিৎসক এবং এক মুদি দোকানি। একটিও ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। রাজ্যের শাসক জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে বিরোধী দলগুলি। চাপ বাড়ছে শরিকদের দিক থেকেও।
শনিবার প্রথম খুনের ঘটনা ঘটে সীতামারহি জেলার মেহসৌল চকে। এই চত্বরই জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম বাজার এলাকা। সকালে প্রকাশ্য রাস্তায় মাথায় গুলি করা হয় স্থানীয় নামী ব্যবসায়ী পুটু খানকে। পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চলে বলে খবর। গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসায় সাড়া দেননি। শেষপর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুন। দেহের ময়নাতদন্তে আপত্তি জানিয়ে রাস্তার উপরেই প্রতিবাদ শুরু করেন মৃতের আত্মীয়রা। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কড়া শাস্তির দাবি তোলেন। উত্তেজিত জনতা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ধরতেও বাধা দেন বলে অভিযোগ।
এরপর দ্বিতীয় খুনের ঘটনা পাটনা জেলার শেখপুরা গ্রামে। শনিবার নিজের জমিতে সেচের কাজ করছিলেন ৫০ বছর বয়সি পশুচিকিৎসক সুরেন্দ্র কুমার। হঠাৎই বাইকে করে এসে তাঁর উপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় বাসিন্দারা পাটনা এইমসে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্যক্ষদর্শী সামনে আসেননি। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।
জানা গিয়েছে, সুরেন্দ্র কুমার বিজেপি-র কৃষক মোর্চার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক শত্রুতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
তৃতীয় খুনের ঘটনাটি ঘটে তার আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায়। পাটনার রামকৃষ্ণ নগর এলাকায় নিজের মুদি দোকানের সামনেই গুলিতে খুন হন বিক্রম ঝা নামে এক দোকানদার। কে বা কারা গুলি চালায় তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের অনুমান, খুনিরা আগে থেকেই দোকানির গতিবিধি নজরে রেখেছিল। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
এই তিনটি ঘটনায় বিহারে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিজেপির শরিক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান টুইট করে বলেন, 'আর কতজন বিহারিকে প্রাণ দিতে হবে? বিহার পুলিশ আসলে কী করছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে না।'
অন্যদিকে, বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি দাবি করেন, 'রাজ্যে কোনও অপরাধ চক্র নেই। বিহারে এখন সুশাসন চলছে।' তাঁর সহকর্মী উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিংহ বলেন, 'এই ঘটনাগুলির পেছনে আরজেডি-র লোকজন জড়িত। ভোট আসছে দেখে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা চলছে।'