পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের ন’বছর পরও চলতে থাকা পণের অত্যাচারেই এই পরিণতি। শ্বশুরবাড়ি থেকে নাকি ৩৬ লক্ষ টাকা পণের দাবি জানানো হয়েছিল।

নিক্কি ও তাঁর বাবা
শেষ আপডেট: 26 August 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডায় নিক্কি ভাটি খুনে শোরগোল দেশে। নৃশংসতা দেখে শিউরে উঠছেন সকলে। ২৮ বছরের তরুণীকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নৃশংসভাবে আগুনে পুড়িয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার সাক্ষী তাঁর সাত বছরের ছেলে। শিশুটি এখনও কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলছে, ‘ওরা মাকে পুড়িয়ে মারল।’ নিক্কির বাবা ভিখারি সিং পৈলা জানিয়েছেন, নাতিকে তিনি যেভাবেই হোক বড় করে তুলবেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সে মাকে মনে করে কেঁদে ওঠে। শান্ত করার চেষ্টা করা হয়, ভুলিয়ে রাখা হয় কিন্তু মায়ের অভাব কী কেউ পূরণ করতে পারে!
সাত বছর মানে জ্ঞান হয়েছে। কথা ভালই বলতে পারে। স্কুল-পাঠশালার গণ্ডিও ছুঁয়েছে। ফলে তাঁর কাছে এই ঘটনা মারাত্মক এবং সে গোটা ঘটনা বিশ্লেষণ করতে পারছে। ঘুমের মধ্যে, ঘুম থেকে উঠে বার বার বলে চলেছেন একটাই কথা 'মাকে পুড়িয়ে দিল ওরা..।'
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের ন’বছর পরও চলতে থাকা পণের অত্যাচারেই এই পরিণতি। শ্বশুরবাড়ি থেকে নাকি ৩৬ লক্ষ টাকা পণের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না হওয়াতে ঘটে এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড। পুলিশ ইতিমধ্যেই নিক্কির স্বামী বিপিন ভাটি, দেওর রোহিত ভাটি ও শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে।
নিক্কির বড় দিদি কাঞ্চনও একই পরিবারে বিয়ে করেছেন। তাঁর দাবি, চোখের সামনে বোনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। তিনিও শ্বশুরবাড়িতে পণের অত্যাচারের শিকার। কাঞ্চনের কথায়, ‘ওরা নিক্কিকে আগুনে ঝলসে দিল আমার চোখের সামনেই। আমাকেও মারধর করা হয় পণের জন্য।’ অভিযোগ উঠেছে, বিপিন ও রোহিত কর্মহীন ছিলেন, সংসার চলত বাবার মুদিখানার দোকানের আয়ে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে নিক্কি ও কাঞ্চন একটি সেলুন ও বুটিক খুলেছিলেন। কিন্তু বিপিন সে কাজ মেনে নেননি।
গত ২১ অগস্ট নিক্কি ও বিপিনের মধ্যে বচসা হয়। সেই সময় বিপিন তাঁকে বেধড়ক মারধর করে এবং মায়ের সাহায্যে আগুনে পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। নিক্কিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। স্থানান্তরিত করা হয় অন্য হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর।
নিক্কির বাবার কথায়, ‘আমার বড় মেয়ে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, পাপা, নিক্কিকে জ্বালিয়ে দিল। হাসপাতালে পৌঁছে শুনলাম, ওর শরীর প্রায় পুরোটা পুড়ে গিয়েছে। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।