সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য স্পষ্ট করেছে— রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স মামলায় তাদের ভূমিকা শুধুই উপদেষ্টার।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 21 August 2025 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব সমস্যার সমাধান আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির স্তরেই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা সম্ভব, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সওয়াল কেন্দ্রের।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল— যদি কোনও রাজ্যপাল (Governor) দীর্ঘদিন বিল আটকে রাখেন, রাজ্য সরকারের কী করণীয়? জবাবে তুষার মেহতা বলেন, “ধরা যাক কোনও রাজ্যপাল একাধিক বিল আটকে রেখেছেন। এর রাজনৈতিক সমাধান আছে। অনেক সময় মুখ্যমন্ত্রী (CM) সরাসরি প্রধানমন্ত্রী (PM) বা রাষ্ট্রপতির (President) সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিনিধি দল গিয়ে অনুরোধ জানায়— এই বিলগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। টেলিফোনেও সমাধান সম্ভব।’’ তাঁর দাবি, সংবিধানে যখন কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, তখন আদালত নিজেরা তা বেঁধে দিতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছিল— রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি যদি কোনও বিল ফেরত পাঠান এবং তা দ্বিতীয়বার রাজ্য বিধানসভা থেকে পাস হয়ে যায়, তবে ৩০ দিনের মধ্যে তাতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালতের সেই রায়কে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে। এই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে আদালতের পরামর্শ চাইবার ক্ষমতা দেয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই অবস্থান ঘিরে ফের সরব হয়েছে বিরোধী-শাসিত কয়েকটি রাজ্য। তামিলনাড়ু, কেরল এবং পঞ্জাব বহুদিন ধরেই অভিযোগ করছে— কেন্দ্রের নিয়োগ করা রাজ্যপালরা ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজ্য বিধানসভার পাশ করা বিল আটকে দিচ্ছেন বা দেরি করিয়ে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাচ্ছেন।
তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার এবং রাজ্যপাল আরএন রবিশঙ্করের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের এপ্রিলের রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলা হয়েছিল। আদালত তখন রাজ্যপালের ভূমিকা ‘স্বেচ্ছাচারী’ এবং ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য স্পষ্ট করেছে— রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স মামলায় তাদের ভূমিকা শুধুই উপদেষ্টার। আপাতত আগের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রশ্ন নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি।