
শেষ আপডেট: 25 June 2024 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর পাঁচটা দিনের মতো দুপুরের নমাজ পড়তে আশপাশের মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়ে গেছেন। কিন্তু ইমাম সাহেবের দেখা নেই। কেউই বুঝতে পারছেন না, ইমাম গেলেন কোথায়। তাঁর ঘরে তালা ঝুলছে।
নমাজ পাঠ শুরুর মুখে অবশ্য হাঁফাতে হাঁফাতে এসে হাজির হন তিনি। নমাজ পাঠ শেষ করে জানান, তিনি এখন একজন সাংসদও বটে। তাই লোকসভায় যেতে হয়েছিল শপথ নিতে।
দিল্লির সংসদ ভবনের ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে বড় মাপের মসজিদটি। সংসদ মার্গ মসজিদ নামে পরিচিত সেটি। আয়তনে বড় এবং অনেক প্রাচীন মসজিদ হলেও সেটিতে লোকজনের আনাগোনা কম। এলাকার হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী শুক্রবার জুম্মার নমাজের দিন যান। বাকি দিন লোক সমাগম হয় আরও কম। তবে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মাঝে মধ্যে গিয়েছেন। যেমন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম। যান বিদেশি অতিথিরাও।
সেই মসজিদের ইমাম মোহিবুল্লাহ নদবী এবার লোকসভার সদস্য হয়েছেন। বিজেপির টিকিটে বহু হিন্দু সাধুসন্ত সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাঁরা গেরুয়া পোশাক পরেই সংসদে যান। কেউ কেউ মন্ত্রী। এবারও জিতেছেন বেশ কয়েকজন গেরুয়াবসনধারী। সেই ভিড়ে ভিন্ন চেহারা, ভিন্ন পোশাকে দেখা যাবে মাঝবয়সি ইমাম নদবীকে। তিনি উত্তর প্রদেশের রামপুর আসন থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মাঝ বয়সি ইমাম দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষায় এমএ করেছেন। কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা রামপুর ও লখনউতে। স্কুল স্তরের পড়াশোনা মাদ্রাসায়।
ইমাম নদবী জানিয়েছেন, এক বন্ধুর সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের সঙ্গে মাস কয়েক আগে আলাপ হয়েছিল তাঁর। প্রথম পরিচয়েই অখিলেশ প্রস্তাব দেন রামপুর আসনে প্রার্থী হতে। তিনিও রাজি হয়ে যান।
সোমবার অখিলেশের সঙ্গেই প্রথম সংসদ ভবনে পা রাখেন। শপথ নিয়ে ফিরে এসে কথা দিয়েছেন, ইমামের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংসদ এবং রামপুরের প্রতিও কর্তব্য পালন করবেন।